পরিযায়ী পাখির পাখায় উচ্ছল সিলেটের যত হাওর

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৬, ১২:৩৪
পাহাড়-নদী ও হাওর বেষ্টিত সিলেটে এখন তীব্র শীত পড়েছে। সেই সাথে পরিযায়ী পাখিদের আগমণ ঘটেছে। ভোরে ঘন কুয়াশার পর সূর্য ওঠার সাথে সাথে দিগন্ত বিস্তৃত টাঙ্গুয়া, ফসুয়া, বরাম, চন্দ্র সেনার থাল, বাইক্কা বিল, হাকালুকিসহ বিভিন্ন হাওরে পাখিরা আপন মনে খেলায় মত্ত। কখনো দল বেধে সাঁতার কাটে, কখনো বা এক সাথে এক ঝাঁক পাখি ডানা মেলে নীল আকাশ ঢেকে ফেলে। আবার ঝপাং করে এক সাথেই হাওরের পানি ফোয়ারার মতো ছিটিয়ে ঝাঁপ দেয়। কোনো কোনো পাখি আবার হাওরের মাছ ধরতে ডাঙ্গা বা জমির আইলে নিবিষ্ট চিত্তে বসে আছে। এসব দৃশ্য চোখ জুড়িয়ে দেবে যেকোনো মানুষের।
 
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক প্রকৃতি প্রেমী পাখিদের এই খেলা দেখতে ছুটে এসেছেন দূরদুরান্ত থেকে। প্রতি শীতে সিলেটের হাওরাঞ্চলে পাখির এই খেলা জমে ওঠে। আর দর্শনার্থী ও পাখি প্রেমীদের ভিড় জমে। একই সাথে বিভিন্ন সংস্থা পাখি শুমারি করে। যেমন হাকালুকিতে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে দু‘দিনব্যাপী জলচর পাখি শুমারি। এর আগে রবিবার ৬ দিনব্যাপী পাখির পায়ে রিং লাগানো (রিংগিং ক্যামপ) হয়। গত বছর রিং লাগানো  ৩০টি পাখি হাকালুকিতে ফিরে এসেছে বলে জানান রিংগিং ক্যামেপ অংশগ্রহণকারীরা। বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক, তার ক্লাবের সদস্য এবং দেশি-বিদেশি পাখি বিশেষজ্ঞরা ২৫ ও ২৬ জানুয়ারি দু’দিনের পাখিশুমারিতে অংশগ্রহণ করেন। ইনাম আল হক বলেছেন, প্রতি বছরের মতো এবারও দু‘দিনব্যাপী জলচর পাখি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়। পুরো হাকালুকি হাওরকে ৪ ভাগে ভাগ করে দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে শুমারি করা হয়। হাকালুকি হাওরের সঙ্গে একযোগে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরেও পাখি শুমারির কাজ চলছে। এর আগে উপকূলীয় অঞ্চলে পাখি শুমারি শেষ হয়েছে। সেখানে ৭৪ প্রজাতির ৩১ হাজার পাখি গণনা করা হয়েছে। এরমধ্যে পরিযায়ী পাখি ৫৭ প্রজাতি এবং দেশীয় ১৭ প্রজাতির পাখি রয়েছে।
 
এদিকে, পাখি শুমারি শুরু হওয়ার আগে গত ১৭ জানুয়ারি থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ৬ দিনব্যাপী হাকালুকি হাওরে আসা পরিযায়ী পাখিদের পায়ে রিং লাগানো হয়। এবার ১৫ প্রজাতির সাড়ে ৩শ পরিযায়ী পাখির পায়ে রিং লাগানো হয়। ২০১৫ সালে ৩৩ প্রজাতির ৩৭০টি পরিযায়ী পাখির পায়ে রিং লাগানো হয়েছিল। এবার ক্যামপ চলাকালে গত বছরের রিং লাগানো ৩০টি পাখি পাওয়া গেছে। এরা সাইবেরিয়া অঞ্চল থেকে ফেরত এসেছে বলে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক জানান।