চট্টগ্রামে অটোরিকশায় মিটার স্থাপনে সাড়া নেই

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৬, ১২:৪১
চট্টগ্রামে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় মিটার বসানোর সরকারি সিদ্ধান্তে সাড়া মিলছে না। প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময় আর চারদিন বাকি রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে সরকার অনুমোদিত ডিলারদের কাছ থেকে মাত্র ২ হাজার অটোরিকশায় মিটার বসানো হয়েছে বলে জানা গেছে। অথচ চট্টগ্রামে বিআরটিএ’র রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত প্রায় ২৮ হাজার সিএনজি চালিত অটোরিকশা রয়েছে। মিটার কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, মিটার লাগানোর জন্য গাড়ির মালিকদের সাড়া মিলছে না। কেউ যোগাযোগও করছে না। তবে সিএমপি ট্রাফিক পুলিশ জানায়, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মিটার ছাড়া কোনো সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলতে দেয়া হবে না।
 
সিএনজি অটোরিকশায় ভাড়া আদায় নিয়ে নৈরাজ্যের কারণে মিটারিং পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। গত ডিসেম্বরের মধ্যে ভাড়ায় চালিত সকল সিএনজি অটোরিকশায় মিটার স্থাপনের জন্য সময় বেঁধে দেয় প্রশাসন। কিন্তু মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সময় বাড়ানোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরো এক মাস সময় বাড়িয়ে জানুয়ারি পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু মিটার কোম্পানি ও মালিক সমিতি জানায়, এখনো পর্যন্ত মাত্র ৫ শতাংশ সিএনজি অটোরিকশায় মিটার স্থাপন করা হয়েছে। বাকিরা মিটার কোম্পানির সাথে যোগাযোগও করছে না।
 
গত বুধবার সিএমপি ট্রাফিক পুলিশ কার্যালয়ে সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতি, চালক সমিতি, বিআরটিএ’র সাথে পুলিশ প্রশাসনের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মিটার ছাড়া রাস্তায় কোনো অটোরিকশা চলতে দেয়া হবে না। এ প্রসঙ্গে সিএমপি উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) মাসুদ উল হাসান ইত্তেফাককে বলেন, ‘৩১ জানুয়ারির মধ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মিটার বসানোর কাজ শেষ করতে প্রচার করতে বলেছি। অন্যথায় পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
 
চট্টগ্রাম সিএনজি বেবিট্যাক্সি মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা মিটার লাগানোর পক্ষে। মহানগর ও জেলায় রেজিস্ট্রেশনবিহীন প্রায় ১৪ হাজার সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করছে। কিন্তু এসব গাড়িতে মিটার বসানো নিয়ে প্রশাসন নীরব রয়েছে। বিষয়টি আমরা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরেছি।’
 
জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলায় প্রায় ৪২ হাজার সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে। এর মধ্যে বিআরটিএ রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত ২৮ হাজার। বাকি ১৪ হাজার রেজিস্ট্রেশনবিহীন। অভিযোগ রয়েছে রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি অটোরিকশাগুলো রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল ও পুলিশ প্রশাসনকে টাকা দিয়ে রাস্তায় চলাচল করছে। প্রতি গাড়ি থেকে মাসে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা  নেয়া হচ্ছে।