সালথায় সংখ্যালঘুর বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৬, ১৪:৩০
ফরিদপুরের সালথায় জুয়া খেলায় বাধা দেয়ায় এক সংখ্যালঘুর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের বিষ্ণনদী গ্রামের সুবোধ কুণ্ডুর বাড়িতে এ হামলা করা হয়। এ সময় হামলা ঠেকাতে এলে সুবোধ কুণ্ডু ও তার স্ত্রী স্বরসতী কুণ্ডুকে পিটিয়ে আহত করে হামলাকারীরা। 
 
সুবোধ কুণ্ডুর ছেলে বিষ্ণ কুণ্ডু বলেন, 'স্থানীয় কয়েকজন যুবক প্রতিদিন রাতে আমাদের বাড়ির সামনে বসে জুয়া খেলতো। বিষয়টি পুলিশকে জানালে গত বুধবার দিবাগত রাতে সালথা থানার এ এস আই মোশারফ হোসেন জুয়ার আসর থেকে কাগদী গ্রামের নাজমুল বিশ্বাসের ছেলে সাহিদ বিশ্বাস (২২), রণজিৎ মালোর ছেলে রতন মালো (২৫) ও ইসরাইল শেখের ছেলে লিয়াকত শেখকে (২৬) আটক করে। পরে ওই সব জুয়াড়ীরা জেল থেকে জামিনে বের হয়ে আসে। জামিনে আসা জুয়াড়ীদের মধ্যে সাহিদ বিশ্বাস ও তার ভাইয়েরা সবাই মিলে শুক্রবার বিকালে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বসতঘরে ব্যাপক ভাংচুর করে। ঘরে থাকা মালমাল লুট করে নিয়ে যায়।' 
 
IMG0
 
তিনি আরও বলেন, 'এ ঘটনায় আমরা মামলা করতে চাইলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা মামলা করতে দেয়নি। তারা বিষয়টি মীমাংসা করে দিবে বলে আশ্বাস্ত করেন।'
 
সুবোধ কুণ্ডুর পুত্রবধূ টুম্পা কুন্ডু অভিয়োগ করে বলেন, 'জুয়াড়ীরা বসতঘর ভাংচুর করার পর ঘরের মধ্যে ঢুকে আলমারি ভেঙ্গে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও আনুমানিক ১৮ থেকে ২০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় ঠেকাতে এলে আমার শ্বশুর-শাশুড়িকে মারপিট করে।' 
 
এদিকে খবর পেয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে ছবি তুলতে গেলে ওই এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি নিউজ না করার জন্য অনুরোধ করে।
 
সালথা থানার এ এসআই মোশারফ হোসেন বলেন, 'গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বুধবার রাতে বিষ্ণনদী গ্রামের মালোপাড়া এলাকা থেকে ৩ জুয়াড়িকে আটক করা হয়। এরপর তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। জুয়াড়িরা জামিনে বেরিয়ে এসে সবোধ কুণ্ডুর বাড়িতে হামলা করেছে বলে শুনেছি। এ ঘটনায় সংখ্যালঘুর পরিবার থানায় মামলা করতে আসলেও স্থানীয়রা মামলা করতে দেয়নি।'
 
সালথা থানার ওসি ছুটিতে থাকায় এ ব্যাপারে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভাব হয়নি।