পোশাক রফতানি বাড়াতে আরো উন্নতি দরকার: বার্নিকাট

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৬, ২০:৫৬
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানিতে প্রবৃদ্ধির জন্য এ খাতের শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের আরো উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট।
 
আগামী পাঁচ বছরে তৈরি পোশাক রফতানি ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীতে করণীয় নিয়ে শনিবার রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বক্তব্যে এ পরামর্শ দেন তিনি।
 
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশের উন্নতির তাগাদা দিয়ে বলেছেন, অন্যত্থায় আমদানিকারকরা বাংলাদেশ থেকে পোশাক নিতে চাইবে না। নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষায় তারা এটা করবে। সম্প্রতি একজন বিদেশি সাংবাদিক বাংলাদেশে এসে একটি পোশাক কারখানায় শিশুদের কাজ করতে দেখে তা নিয়ে প্রতিবেদন করেছেন বলে জানান বার্নিকাট।
 
পোশাক ব্যবসায়ীদের প্রতি পরিস্থিতির উত্তরণের তাগাদা দিয়ে তিনি বলেন, এসব বিষয়ের পরিবর্তন না করলে অনেকেই বাংলাদেশ থেকে পোশাক নিতে চাইবে না। কারণ এটি তাদের ইমেজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যুক্তরাষ্ট্রে অগ্রাধিকারমূলক বাজার-সুবিধা (জিএসপি) ফিরে পাওয়ার জন্যও কারখানার কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকের নিরাপত্তার বিষয়ে আরও অগ্রগতি দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।
 
বাংলাদেশে কারখানার কর্মপরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে আসা যুক্তরাষ্ট্র তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ড এবং রানা প্লাজা ধসে সহস্রাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর পর ২০১৩ সালে জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেছিল। এরপরে জিএসপি সুবিধা পাওয়ার জন্য বাংলাদেশকে ১৬টি শর্ত দেয়া হয়, যার মধ্যে কারখানা ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার ছিল অন্যতম।
 
এসব শর্তের প্রায় সবগুলোই বাংলাদেশ পূরণ করেছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। তবে শর্তগুলোর বিভিন্ন দিক দিন দিন অগ্রগতি হলেও বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি বলে যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য।
 
বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অস্ট্রেলিয়ার আরএমআইটি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শরিফ আস সাবের। সভায় অন্যদের মধ্যে শ্রম সচিব মিকাইল শিপার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াডোনসহ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।