শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামের তিন নম্বর গেটটা একেবারে লাবণী পয়েন্টের মুখে।
মানে, গেট থেকে বের হয়ে দশ গজ গেলেই কক্সবাজারের বিখ্যাত সমুদ্র সৈকতের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রের একটি। সৈকতে চলতি লোকজন মাঝে মাঝেই একটু অবাক হয়ে ফিরে দেখছেন স্টেডিয়ামের ভেতরে বাইরের ব্যস্তততা। সে পথেই হাঁটতে হাঁটতে এক কিশোর মুখ তুলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজনকে জিজ্ঞেস করলো, ‘আজ কী খেলা আছে?’
ভদ্রলোক চোখটা বড় করে বললেন, ‘আজ খেলা নেই। কাল আছে। কাল এক সাথে দুই খেলা।’
আসলেই আজ কক্সবাজার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের দুটি ম্যাচ। কমপ্লেক্সে পাশাপাশি দুটি ম্যাচের একটিতে লড়বে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নামিবিয়া। অন্যটিতে, মানে মূল মাঠে অনুষ্ঠিত হবে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও স্কটল্যান্ড ম্যাচ। বলা যায়, এবার বিশ্বকাপে আজকে দিনের অন্তত সেরা আকর্ষণীয় ম্যাচ।
আজ সকাল নয়টায় একসাথে শুরু হবে দুটি ম্যাচ।
অন্যতম ফেবারিট হিসেবে চলতি যুব বিশ্বকাপ শুরু করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ যুব দল। অভিযানের প্রথম ম্যাচেই চট্টগ্রামে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে সেই আশাটা আরও দৃঢ় করেছে বাংলাদেশ দল। কক্সবাজারে অনুষ্ঠেয় দুটো ম্যাচের একটি জিতলেই পরের রাউন্ড নিশ্চিত একরকম। তবে বাংলাদেশ দলের লক্ষ্য আসলে গ্রুপসেরা হওয়া। সে জন্য এখানকার দুটি ম্যাচেই জয় পাওয়া জরুরি।
আজকের ম্যাচটি সে হিসেবে বাংলাদেশের অন্যরকম গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য একটু চাপেরও—প্রত্যাশার চাপ। ইতিমধ্যে নিজেদের ‘বড় দল’ হিসেবে দাঁড় করিয়ে ফেলা বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আজ গ্রুপের অন্যতম দুর্বল দল স্কটল্যান্ড। ফলে এখানে জিততেই হবে, বলে একটা চাপ থাকছেই।
অবশ্য বাংলাদেশ দল মনে করছে না যে, স্কটল্যান্ড দুর্বল দল। দলের উপদেষ্টা বিশেষজ্ঞ স্টুয়ার্ট ল বলছিলেন, তারা এভাবে ভাবছেন না। আবার দলের প্রতিনিধি হয়ে গতকাল সংবাদ মাধ্যমের সামনে আসা পেসার সফিউদ্দিন বলছিলেন, ‘আমাদের সামনে এখন যে দলই আসবে, আমরা তাদের সমান গুরুত্বের সাথে নিচ্ছি। ছোট দল বলে কিছু এই পর্যায়ে নেই। স্কটল্যান্ড সম্পর্কে আমাদের পরিষ্কার ধারণা নেই। তবে এটুকু জানি, জিততে হলে ভালো খেলেই জিততে হবে।’
অন্য দিকে ইতিমধ্যে নামিবিয়ার কাছে বাজেভাবে হেরে বিশ্বকাপ শুরু করার পরও স্কটল্যান্ড দলও আশাবাদী আজ বাংলাদেশকে হারিয়ে একটা অঘটনের জন্ম দেয়ার ব্যাপারে। অন্তত তেমনই বলছিলেন দলটির অধিনায়ক।
