চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ৪র্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত এই সমাবর্তনে প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ। এ সময় তিনি বলেন, উচ্চ শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে তত্পরতা চালাতে হবে।
রাষ্ট্রপতি সমাবর্তনে আগত নবীন গ্রাজুয়েট, গবেষক এবং তাদের অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম সবদিক থেকে উল্লেখযোগ্য ভৌগলিক সীমানা। চর্যাপদ রচয়িতাদের কয়েকজনের স্থান চট্টগ্রামে। আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ চট্টগ্রামকে সাহিত্যিকদের তীর্থস্থানের মর্যাদা এনে দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, তরুণ প্রজন্মই জাতির প্রাণ শক্তি, সমাজ পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার। তাদের অমিত সম্ভাবনাকে বিকশিত করতে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ করতে হবে। তাদের স্বপ্ন দেখাতে হবে কারণ স্বপ্ন না থাকলে সাফল্য আসে না। বাংলাদেশ আজ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলেছে। শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাথাপিছু আয়, স্যানিটেশন, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি প্রভৃতি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সামাজিক শৃঙ্খলা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে হবে।
তিনি গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে বলেন, গ্রাজুয়েটরা দেশের উচ্চতর মানব সম্পদ। এ সমাবর্তন যেমন তোমাদের স্বীকৃতি দিচ্ছে তেমনি তোমাদের উপর দায়িত্ব অর্পণ করছে। সেই দায়িত্ব পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের প্রতি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ভবিষ্যত্ কর্মজীবনে তোমাদের অর্জিত জ্ঞান ও পন্ডিত্যের সত্ ও ইতিবাচক ব্যবহার করবে। চট্টগ্রামের বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় উন্নয়নে তাদের অবদান অসামান্য। আমরা তাদের কাছে ঋণী। এই চট্টলার সন্তানেরা লড়াই করেছে ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে।
অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামান। তিনি গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলাদেশের জ্ঞানচর্চার পরিবেশ যে সব কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে তার একটি হলো সহনশীলতা এবং উদারতার অভাব। নজরুলের স্বতঃস্ফুর্ত ও প্রবল প্রাণ প্রবাহই কেবল কোন ধরনের বাধা মানেনি। বাংলাদেশে আমরা দেখছি, ব্লগার হত্যা করা হচ্ছে তাদের নাস্তিক আখ্যা দিয়ে। আবার যেসব প্রকাশক ব্লগারদের বই প্রকাশ করছে তাদের হত্যা করা কিংবা হত্যার প্রচেষ্টা নেয়া হচ্ছে। আস্তিক হলেই যে রক্ষা তাও নয়। কেননা পীরকে হত্যা করা হয়েছে পীরবাদ ইসলাম সম্মত নয়, এমন অভিযোগে। কারো লেখায় বা কথায় কারো ধর্মবিশ্বাসে আঘাত লাগলে তিনি লিখে বা মুখের কথায় বিরোধী পক্ষের যুক্তি খন্ডন করতে পারেন। কিন্তু কলমের উত্তরে চাপাতি কেন?
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে এত র্দীঘপথ পাড়ি দিতে অভিভাবক, শিক্ষক, দেশের জনগোষ্ঠীর আছে অপরিসীম অবদান, ত্যাগ, পরিশ্রম। এখন সময় এসেছে তাদের প্রতি তোমাদের যে ঋণ তা পরিশোধের। সকলে আশা করেন তোমরা তাদের এই অবদানের যথাযোগ্য প্রতিদান দেবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইফতেখার উদ্দিন বলেন, অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রবেশ করবে এক ঐতিহাসিক পূর্ণতার বৃত্তে। পূরণ করবে অর্ধশতাব্দী। আজকের এই ৪র্থ সমাবর্তন সেই অর্ধশতাব্দী কালের মাহেন্দ্র-মুহূর্তের জন্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও উপলক্ষ্য। যে প্রাণময়তায় এই সমাবর্তন উদযাপন হলো সেই প্রাণময়তায় আমরা উদযাপন করবো অর্ধশতাব্দী পর্বকে।
সামবর্তনের আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ এবং শিক্ষকবৃন্দ। উল্লেখ্য, এবারের সামবর্তনে ২৫ পিএইচডি, ১৩ জন এমফিল এবং ৭ হাজার একশত ৯৪ জন গ্রাজুয়েটকে সনদ প্রদান করা হয়।
