দিনাজপুরের ফুলবাড়ির পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকায় গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে কাঠ ভর্তি ট্রাক (ঢাকা- মেট্রো-ট-১৬-৯৯১০) উল্টে ৪জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫জন। তবে ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে।
নিহত ৪জন হলেন- দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের শকুনখোলা গ্রামের মৃত নওয়াব আলীর ছেলে জাফিরুল ইসলাম (৪০), আব্দুল মালেকের ছেলে রেজাউল করিম (৩৭), মৃত আব্দুল করিমের ছেলে ইসমাইল হোসেন (৩৬) ও আশু সিংয়ের ছেলে দীলিপ সিং (৩৭)।
আহত ৫জন হলেন- একই গ্রামের মৃত নওয়াব আলীর ছেলে মজিবর রহমান (৩৫), মৃত হেসাব উদ্দিনের ছেলে বাবলু মিয়া (৩৯), মৃত আজগর আলীর ছেলে আতিকুর রহমান আতি (৩৬), ওসমান গণির ছেলে তাজুল ইসলাম (৪১) ও মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে আসাদ আলী (৩২)।
বড়পুকুরিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) এসআই ফেরদৌস আহম্মেদ বলেন, 'দুর্ঘটনায় কবলিত ট্রাকটি পার্বতীপুরের হলদিবাড়ি এলাকা থেকে ইউক্যালিপটাস কাঠ ভর্তি করে ট্রাকের ক্যাবিনে ৫জন এবং ট্রাকের কাঠের ওপর ৪জন আরোহী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ট্রাকটি বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কোল ইয়ার্ড এলাকায় যাওয়ার পর ঘন কুয়াশার মধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর ট্রাককে সাইড দিতে গিয়ে চালক ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পশ্চিম পার্শ্বের গর্তে উল্টে খায়। এতে ট্রাকের কাঠের চাপায় উল্লেখিত ৪জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। তবে ক্যাবিনে থাকা ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেলেও অপর ৫জন গুরুতর আহত হন।'
আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের লাশের ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নবাবগঞ্জ উপজেলার ৩নম্বর গোলাপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. রওশন আলী বলেন, 'দুর্ঘটনার শিকার হতাহত সকলেই তার ইউনিয়নের শকুনখোলা গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় শ্রমিক। ঘটনার দিন ট্রাকে কাঠ ভর্তি করতে পার্বতীপুরের হলদিবাড়ি গিয়েছিল। কাজ শেষে কাঠের ট্রাকেই বিরামপুর হয়ে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় ওই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।'
