সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর বাসায় যুবলীগের হামলা, আহত তিন

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১৮:০০
 
সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকারের নাটোর শহরের বাসায় সন্ত্রাসী হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রতিমন্ত্রীর মেয়েসহ তিনজন আহত হয়েছে।
 
সাবেক মন্ত্রী আহাদ আলী সরকার তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনার জন্য পৌর যুবলীগের একটি অংশকে দায়ী করেছেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর বুধবার দুপুরে পুলিশ রেদোয়ান হোসেন সাব্বির নামে এক যুবলীগ নেতাকে আটক করেছে। স্থানীয়রা জানায়, রাত নয়টার দিকে কয়েকজন যুবক হাতে ক্রিকেটের স্ট্যাম্প ও অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকারের নাটোরের কানাইখালি মহল্লার জেলেপাড়ার বাসভবনে ঢুকে পড়ে।
 
বাসার কেয়ারটেকার বাবু তাদের বাধা দিলে তাঁকে বেধড়ক পিটিয়ে তারা অতিথি কক্ষে প্রবেশ করে। এ সময় তাঁর মেয়ে স্থানীয় বঙ্গবন্ধু কলেজের অধ্যক্ষ মৌসুমী পারভীন সেখানে এলে তাঁকেও স্ট্যাম্প দিয়ে পেটায়। তখন মন্ত্রীর দুই জামাই মাজহারুল ইসলাম ও আশরাফুল ইসলাম ভবনের অন্যান্য তালা থেকে নেমে এলে হামলাকারীরা তাঁদেরকেও মারপিট করে। এ সময় আহাদ আলী সরকারের স্ত্রী দীর্ঘ সময় ধরে চিৎকার চেঁচাম্যাচি করলেও ভয়ে আশ পাশ থেকে কেউ এগিয়ে আসেননি বলে তিনি জানান। ততক্ষণে হামলাকারীরা মেয়েদের আনুমানিক চার লাখ টাকার স্বর্ণালংকার কেড়ে নিয়ে দ্রুত চলে যায়।
 
এ সময় হামলাকারীরা আহাদ আলী সরকারকে খোঁজা খুঁজি করতে থাকে। তবে তিনি বাসার বাইরে ছিলেন। মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে তিনি পুলিশ সুপার ও সদর থানাকে ঘটনাটি জানালে বিপুল সংখ্যক পুলিশ তাঁর বাড়িতে আসে। জানা গেছে, সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী তিনতলা এই বাসায় দুই মেয়ে-জামাইকে নিয়ে বসবাস করেন।
 
আহাদ আলী সরকারের ছোট জামাতা মাজহারুল ইসলাম জানান, তিনি হৈ চৈ শুনে উপর থেকে নীচে নেমে আসার সাথে সাথেই দুর্বৃত্তরা তাঁকে মারপিট করতে শুরু করে। তখন তাঁর বড় ভায়রা বাইরে থেকে বাসায় ফিরে তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁকেও টানাহেচড়া করে দুর্বৃত্তরা। আহাদ আলী সরকার রাতেই তাঁর বাসায় তাৎক্ষনিক সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, বর্তমানে তিনি স্ব-পরিবারে নাটোরের বাসায় থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। এটা দলের অনেকে সহ্য করতে পারছেন না। তাই সুপরিকল্পিতভাবে তাঁর পরিবারের ওপর হামলা ও লুটপাট করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার জন্য পৌর যুবলীগের সদস্য রেদোয়ান হোসেন সাব্বিরসহ তাঁর সহযোগীদের দায়ী করেন।
 
এ ঘটনায় আহাদ আলী সরকার বুধবার রেদোয়ান হোসেন সাব্বিরসহ অজ্ঞাত ৮/৯ জনকে অভিযুক্ত করে নাটোর থানায় ভাংচুর, মারপিট, ছিনতাই ও চাঁদাবাজীর অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। নাটোর সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, মামলার প্রেক্ষিতে বুধবার দুপুরে শহরের কানাইখালি এলাকাা থেকে রেদোয়ান হোসেন সাব্বির নামে এক যুবলীগ নেতাকে আটক করা হয়েছে।