ভ্যালেন্সিয়াকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিল বার্সা

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ০৯:০৩
লুইস সুয়ারেজের চারটি ও লিওনেল মেসির তিন গোলে ভ্যালেন্সিয়াকে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে বার্সেলোনা। ন্যু ক্যাম্পে কোপা দেল রের সেমিফাইনালের প্রথম লেগের এই জয়ে ফাইনাল একরকম নিশ্চিতই হয়ে গেল লুইস এনরিকের দলের।
 
ঘরের মাঠে শুরু থেকেই গোল উৎসবে মেতে ওঠে বার্সেলোনা। শুরুটা করেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লুইস সুয়ারেজ, গোলটিতে দারুণ অবদান ছিল নেইমারের। মাঝ মাঠে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে ব্রাজিল অধিনায়ক অনেকটা দৌড়ে ডান দিক দিয়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়া সুয়ারেজকে পাস দেন। আর দারুণ কোনাকুনি শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন উরুগুয়ের এই স্ট্রাইকার।
 
পাঁচ মিনিট বাদে দলকে আবারও উল্লাসে ভাসান সুয়ারেজ। ডি বক্সের বাইরে থেকে সার্জিও বুসকেটস বল বাড়ান অ্যালেক্স ভিদালকে, গোললাইনের কাছ থেকে তার ব্যাকপাস পেয়ে ১০ গজ দূর থেকে লক্ষ্যভেদ করেন ২৯ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। দ্বিগুণ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বার্সেলোনা, প্রতিপক্ষের রক্ষণে ক্রমেই চাপ বাড়াতে থাকে তারা। দ্রুত ফলও পেয়ে যায়, স্কোরশিটে নাম লেখান লিওনেল মেসি। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার বাড়ানো বলে ডি বক্সের মাথায় আর্জেন্টিনা অধিনায়কের উদ্দেশে আলতো ফ্লিক করেন নেইমার, নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করেন পাঁচবারের বর্ষসেরা তারকা।
 
IMG0
 
বিরতির আগে আরও দুটি গোল পেতে পারতো বার্সেলোনা, কিন্তু দুর্ভাগ্য আর নেইমারের ব্যর্থতায় সেটা হয়নি। ৪৪তম মিনিটে দারুণ এক প্রতি-আক্রমণে সুয়ারেজ মাঝ মাঠ থেকে ক্ষিপ্র গতিতে ছুটে ডান দিক দিয়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়া মেসির দিকে বল বাড়ান। কিন্তু দলের সেরা তারকার শটটি পোস্টে বাধা পায়। পরের মিনিটে বল পায়ে একাই বক্সে ঢুকে পড়া মেসিকে বিপজ্জনকভাবে ফাউল করায় ভ্যালেন্সিয়ার জার্মান ডিফেন্ডার মুস্তাফিকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা, কিন্তু পোস্টে বল মেরে সহজ সুযোগটি নষ্ট করেন নেইমার।
 
এক জন কম নিয়ে খেলা ভ্যালেন্সিয়ার রক্ষণে দ্বিতীয়ার্ধেও একইভাবে চাপ ধরে রাখে বার্সেলোনা। তিন মিনিটের মধ্যে সহজ দুটি সুযোগ নষ্ট করার পর ৫৮তম মিনিটে আর হতাশ করেননি মেসি। তুরস্কের মিডফিল্ডার আর্দা তুরানের পাসে ব্যাকহিল করে মেসিকে বল বাড়ান সুয়ারেজ। আর সঙ্গে লেগে থাকা এক ডিফেন্ডারের বাধা এড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটি করেন বর্ষসেরা তারকা।
 
IMG1
 
৭৪তম মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাঁ পায়ের কোনাকুনি শটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন লিওনেল মেসি। ৫-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও একইরকম আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলা চালিয়ে যায় বার্সেলোনা। তারই ফলশ্রুতিতে পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে আরও দুটি গোল করেন সুয়ারেজ।
 
বদলি নামা ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার আদ্রিয়ানোর ক্রসে দুরূহ কোণ থেকে হেডে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন সুয়ারেজ। আর ৮৮তম মিনিটে তুরানের পাস ধরে নিজের চতুর্থ ও দলের সপ্তম গোলটি করেন লিভারপুলের সাবেক এই স্ট্রাইকার। এই চার গোলে সুয়ারেজের এই মৌসুমে মোট গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৩৩ ম্যাচে ৩৫টি।
 
পুরো ম্যাচে অসংখ্য সুযোগ বিফলে যাওয়ার হিসাব বাদ দিয়ে শুধু শেষ পাঁচ মিনিটেই নেইমার তিনটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। অন্যথায় ভ্যালেন্সিয়ার জন্য স্কোরলাইনটা হতে পারতো আরও লজ্জার। গোল.কম।