চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও ঢাকা এক নয়। কোথাও পাহাড়, কোথাও সমুদ্র এবং এই ঢাকায় কেবলই সমতল। তিন জায়গায় আবহাওয়ায় পার্থক্য আছে, উইকেটে পার্থক্য আছে। তবে বাংলাদেশ দল আজ সব পার্থক্য ঘুচিয়ে একটা মিলই ধরে রাখতে চায়—জয়।
হ্যা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যে জয়ের ধারায় ছিলো যুব দল, আজ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালেও সেটা চাইছে বাংলাদেশ। সহযোগী দেশ নেপালের বিপক্ষে প্রত্যাশিত সেই জয়টা পেলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে যাবে বাংলাদেশ দল।
এই ইতিহাস গড়ার প্রেরণা নিয়ে আজ সকাল ৯টা থেকে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ‘ডি’ গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হয়ে আসা নেপালের মুখোমুখি হবে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ।
কোয়ার্টার ফাইনাল অবদি বাংলাদেশ আগেও তিন বার এসেছে। প্রতিবারই পুড়তে হয়েছে হতাশার যন্ত্রণায়। প্রায় আসরেই বিশ্বকাপের দাবি নিয়ে খেলতে যাওয়া বাংলাদেশ দলকে বেশিরভাগ সময় সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে প্লেট চ্যাম্পিয়ন হয়ে। যে বছরগুলোতে তারা সুপার লিগে এসেছে, সেখানে দৌড় শেষ হয়েছে এই কোয়ার্টার ফাইনালে। এ অর্থে বাংলাদেশের জন্য আজকের কোয়ার্টার ফাইনালটিকে সত্যিকারের ‘ফাইনাল ফ্রন্টিয়ার’ বলা চলে।
অবশ্য এই পর্বে নেপালকে পাওয়াটা স্বাগতিকদের পুরোনো ইতিহাসে তৈরি হওয়া টেনশনটা একটু কমিয়ে দিচ্ছে। এটা ঠিক যে, চলতি যুব বিশ্বকাপে নেপাল একটা ‘সেনসেশন’ তৈরি করতে পেরেছে। তারা নিউজিল্যান্ডকে বিদায় করে দিয়ে এসেছে এই পর্বে। এমনকি এই নেপালের বিপক্ষে ২০০২ যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পরাজয়ের রেকর্ডও আছে।
তারপরও দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বলেকয়ে সিরিজ হারানো বাংলাদেশের যুব দলের জন্য নেপাল কখনোই খুব বড় কোনো দুশ্চিন্তার নাম হতে পারে না। সে দুশ্চিন্তা বাংলাদেশ করছেও না। তারা মনে করছে, নেপালকে নিয়ে নয়, বাংলাদেশকে ভাবতে হবে নিজেদের নিয়েই। অন্তত তেমনই বলছিলেন বাংলাদেশের কোচ মিজানুর রহমান বাবুল ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
বাবুল তার এক কথাতেই বুঝিয়ে দিয়েছেন নিজেদের ভাবনাটা, ‘তাদের কি আছে না আছে, এইসব আমরা ভাবছি না। আমরা আমাদের পরিকল্পনাগুলো নিয়ে ভাবছি, কিভাবে সেগুলো মাঠে বাস্তবায়ন করা যায়। ওরা ছোট টিম কিংবা বড় টিম এইরকম কোন চিন্তা আমরা করতে চাচ্ছি না।’
