জাহাঙ্গীরনগরে বর্ণাঢ্য পাখি মেলা

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ০৯:৩২
কিছু পাখি খুনসুটি আর ডুবসাঁতারে ব্যস্ত, কেউবা আবার উড়ে বেড়ানোয়। লাল শাপলাশোভিত জলাশয়গুলোতে এমনই পরিযায়ী পাখিদের বিচরণ। গতকাল শুক্রবার তা দেখেই মুগ্ধ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে আসা পাখিমেলার দর্শনার্থীরা।
 
প্রতিবছরের ন্যায় এবারো ‘পাখ-পাখালি দেশের রত্ন, আসুন করি সবাই যত্ন’-এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে পাখি সংরক্ষণ ও গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের আয়োজনে বর্ণাঢ্য পাখি মেলা-২০১৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বেলা পৌনে এগারোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পাখিমেলার উদ্বোধন করেন ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। এসময় তিনি বলেন, জীববৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে সারাদিন কাটালে পাখির আহার, ঘোরা-ফেরা সবই দেখা সম্ভব। অধ্যাপক এটিএম আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রকৃতি ও জীবনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, আইইউসিএন-এর সমন্বয়ক হাসিব ইরফান উল্লাহ, বার্ড ক্লাবের সভাপতি নিয়াজ আবদুর রহমান, আরণ্যক ফাউন্ডেশনের আব্দুল হক চৌধুরী, পাখিমেলার আহ্বায়ক মো.কামরুল হাসান প্রমুখ।
 
পাখি মেলা উপলক্ষে শুক্রবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্যাম্পাসে ভিড় জমায় পাখিপ্রেমীরা। দর্শনার্থীরা জলাশয়গুলোর পাড়ে দাঁড়িয়ে বাইনোকুলার দিয়ে পাখি দেখেন। কেউবা ব্যস্ত ছিলেন পাখির ছবি তোলায়। নতুন কলা ভবনের সামনে বিভিন্ন স্টল দিয়ে কাঠের পাখি দেখানোর মাধ্যমে পাখি সম্পর্কে সচেতন করে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ছিল শিশু-কিশোরদের জন্য পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, টেলিস্কোপে শিশু-কিশোরদের পাখি পর্যবেক্ষণ, পাখির আলোকচিত্র ও পত্র-পত্রিকা প্রদর্শনীর মাধ্যমে স্টল সাজানো প্রতিযোগিতা প্রভৃতি। এবারের মেলায় পাখির প্রজাতি নিয়ে কাজ করার জন্য বরিশালের আব্দুল মজিদ শাহ শাকিল, মৌলভীবাজারের সৈয়দ মো. রাতুল ও শাহরিয়ার রশিদকে ‘বিগ বার্ড অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক সাজেদা বেগমের পাখিবিষয়ক ‘বার্ডস অব জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।