যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) আগামী পাঁচ বছরে লকহিড মার্টিন কর্পোরেশনের তৈরি ৪০৪টি এফ-৩৫ স্টিলথ জঙ্গি বিমান কেনার পরিকল্পনা করেছে। পেন্টাগনের ক্রয় পরিকল্পনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র শুক্রবার এ খবর জানিয়েছে।
গেল বছর পেন্টাগন যে পরিকল্পনা করেছিল তাতে আরো বেশি বিমান ক্রয়ের ঘোষণা ছিল। এবারের পরিকল্পনায় বিমানের সংখ্যা আগের সংখ্যা থেকে পাঁচ থেকে সাত শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে। সংশোধিত এই ক্রয়াদেশের বিষয়টি মঙ্গলবার পেন্টাগনের ২০১৭ সালের বাজেট পরিকল্পনায় এবং নতুন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় প্রকাশ করা হতে পারে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। বাজেট প্রকাশ হওয়ার আগে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব কথা জানিয়েছে ওই সূত্র।
পেন্টাগনের ৩৯১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কেনার কর্মসূচিতে বিমান বাহিনীর জন্য বরাদ্দ ৪৫টি এফ-৩৫ স্টিলথ কেনার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়েছে, অপরদিকে নৌবাহিনী এবং মেরিন ক্রপসের জন্য বরাদ্দ বিমানগুলোর জন্য ক্রয়াদেশে গতি আনা হয়েছে। তবে আসছে বছরগুলোতে সামরিক বাহিনীর তিনটি বিভাগ, বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী ও মেরিন ক্রপসের জন্য মোট দুই হাজার ৪৫৭টি স্টিলথ জেট কেনার পরিকল্পনায় এখনো অটল আছে পেন্টাগন।
‘স্টিলথ’ যুদ্ধবিমান শত্রুর রাডার-ফাঁকি দিতে সক্ষম। উচ্চমূল্য সত্বেও বিশ্বের সব বিমান বাহিনী স্টিলথ যুদ্ধবিমান পেতে চায়। শনাক্তকরণ এড়ানোর ক্ষমতার কারণে বিমান যুদ্ধে এবং বোমাবর্ষণের সময় এগুলোর মাধ্যমে বড় ধরনের সুবিধা পাওয়ার কথা। আসছে বছরগুলোতে স্টিলথ প্রযুক্তিতে সজ্জিত জঙ্গিবিমান দিয়েই নিজেদের বিমানবহর সাজাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
এসব ক্রয়াদেশ থেকে পেন্টাগনের প্রধান সরবরাহকারী লকহিড মার্টিন কর্পোরেশন ও জেট ইঞ্জিন নির্মাতা প্রাট এন্ড হুইটনি-র প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার আয় হবে বলে জানা গেছে। পেন্টাগনের এই ক্রয় পরিকল্পনায় এফ-৩৫ জঙ্গি বিমান ক্রয়ের আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশগুলো ধরা হয়নি বলে জানিয়েছে সূত্রটি। আগামী পাঁচ বছরে ২৬০টি এফ-৩৫ স্টিলথ জঙ্গি বিমানের জন্য ক্রয়াদেশ দিয়ে রেখেছে ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, বেলজিয়াম ও সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি দেশ। রয়টার্স।
