রাজধানীর যানজট কমাতে ২২টি ইউলুপ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। এই পদ্ধতির বাস্তবায়ন হলে তেজগাঁও সাতরাস্তা থেকে গাজীপুর যেতে কোন সিগন্যালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রীদের আটকে থাকতে হবে না। লাগবে না সিগন্যাল বাতি। প্রয়োজন নেই ট্রাফিক পুলিশও। এতে করে রাজধানীবাসীর যানজটের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইতোমধ্যে রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন গেটের সামনে দেশের প্রথম ইউলুপ নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এটি হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকার দুটি ইউলুপের একটি। এদিকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বলছে, বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণে রেখেছে। উত্তর সিটি সফল হলে তারাও বিষয়টি ভেবে দেখবেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর অসহনীয় যানজট নিরসনে ব্যর্থ সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল সংস্থা। এটি নিয়ে বিব্রত ঢাকার দুই সিটি মেয়র। বিষয়টি এই দুই সংস্থার সরাসরি দায়িত্বে না থাকলেও দুই মেয়রকে এটি নিয়ে ভাবতে হচ্ছে।
ইতোমধ্যে যানজট নিরসনে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। জানা গেছে, রাজধানীর জয়দেবপুর চৌরাস্তাসংলগ্ন তেলিপাড়া থেকে তেজগাঁও সাতরাস্তা মোড় পর্যন্ত ২২টি ইউলুপ তৈরির মাস্টারপ্ল্যান হাতে নিয়েছে উত্তর সিটি করপোরেশন।
সিটি মেয়র আনিসুল হক জানিয়েছেন, চার মাস ধরে ইঞ্চি-ইঞ্চি জমি মেপে এই পরিকল্পনা কাঠামো দাঁড় করিয়েছি। এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হলে আগামী জুনের মধ্যে উত্তর সিটির প্রায় ৪০ ভাগ যানজট কমে যাবে। এই লক্ষ্যে বিমানবন্দর-উত্তরা সড়কে প্রকৌশলী কামরুল হাসানের উপস্থাপিত একটি ইউলুপ মডেল পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়। এই কার্যকারিতা যাচাইয়ে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়ায় সড়ক ও জনপথ অধিদফতর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ট্রাফিক), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষসহ (বিআরটিএ) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা, নগর ও পরিবহন বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে আরও পরামর্শ নেয়া হয়। পরে হাতিরঝিল সাতরাস্তা থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ৩৪ কিলোমিটার সড়কে ২২টি ইউলুপ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এটার জন্য একটি টিম গঠন করে উত্তর সিটি করপোরেশন। প্রকৌশলী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি মডেল তৈরি করা হয়। মডেল অনুসারে জয়দেবপুর চৌরাস্তা সংলগ্ন তেলিপাড়া থেকে তেজগাঁও সাতরাস্তা মোড় পর্যন্ত রাস্তাটিতে দুই ধরনের ইউলুপ তৈরি করা হবে।
বড় ও মাঝারি গাড়ির জন্য ‘টাইপ-এ’ এবং ছোট গাড়ির জন্য ‘টাইপ-বি’ ধরনের ইউলুপ ডিজাইন করা হয়েছে। ‘টাইপ-এ’ এর ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ১৪৪ ফুট প্রশস্ত এবং ‘টাইপ বি’ এর ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ১০৪ ফুট প্রশস্ততায় ইউলুপ তৈরি করা হবে। একটি ইউলুপ থেকে অপর ইউলুপের দূরত্ব হবে ৮০০ মিটার থেকে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার পর্যন্ত।
সূত্র জানায়, ২২টি ইউলুপ করতে প্রায় ৩৮ বিঘা জমির দরকার। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথের ৩১ দশমিক ২৫ বিঘা, রেলওয়ের ১ দশমিক ৬১ বিঘা, সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের ১ দশমিক ৮৩ বিঘা জমি রয়েছে। উত্তর সিটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এ জমিগুলো খালিই পড়ে আছে। তাই এসব জমি নতুন করে অধিগ্রহণের দরকার হবে না। সংশ্লিষ্ট তিন দফতর এগুলো সিটি করপোরেশনকে ব্যবহার করতে দিলেই তারা দ্রুত কাজ শেষ করতে পারবেন।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বলছে, ঢাকা উত্তর যদি সফল হয় তবেই তারা ইউলুপ প্রকল্প গ্রহণ করবে। তার আগে এ প্রকল্পের ঝুঁকি নেয়ার মতো অবস্থা তাদের নেই। যদিও পুরান ঢাকার অসহনীয় যানজটে নাকাল দক্ষিণ সিটির মানুষ।
ইউলুপ পদ্ধতির উদ্ভাবক প্রকৌশলী কামরুল হাসান বলেন, এই বিশেষ কৌশল বাস্তবায়ন হলে সড়ক-মহাসড়কে গাড়ি চলতে এক মুহূর্তও থামতে হবে না। সিগন্যালে আটকে থাকতে হবে না ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ট্রাফিক পুলিশের প্রয়োজন হবে না। লাগবে না সিগন্যাল বাতিও।
তিনি বলেন, এ পদ্ধতিতে একাধিক রাস্তার সংযোগস্থল বা ইন্টারসেকশনে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে। সেইসঙ্গে ক্রসিংয়ের কাছাকাছি সড়কের ভেতরে বিশেষ ধরনের ইউটার্ন স্থাপন করতে হবে। এটি বাস্তবায়ন হলে সড়কে আর সিগন্যাল পড়বে না।
