দেড় বছর বয়সী মেয়ের গলা কেটে হত্যা করেছেন এক বাবা। পরে সেই ছুরি দিয়ে নিজেকে আঘাত করে ও বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জেলার ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের বড়চালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ময়নাতদন্তের জন্য জামিল হোসেন ও শিশু কন্যা রাবেয়া খাতুনের মৃতদেহ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, জামিল হোসেন দেওয়ানবাগ দরবার শরীফের একজন আশেকান (ভক্ত)। বাড়ির পিছনে আলাদা একটি ঘর তৈরি করে দরগাশরীফের সামিয়ানা টানিয়ে তাতে ফজরের নামাজের পর প্রতিদিনই তালিম করতেন। গতকাল ফজরের নামাজের পর জামিল হোসেন রাবেয়াকে নিয়ে বাড়ির পাশে একটি দোকানে যান এবং রাবেয়ার জন্য কিছু চকলেট কিনে আনেন। পরে তালিমের ঘরে গিয়ে ছুরি দিয়ে রাবেয়ার গলা কেটে হত্যা করেন। শিশু কন্যাকে হত্যার পর ওই ছুরি দিয়েই নিজের বুকে আঘাত করেন এবং বিষ পান করেন। স্ত্রী সাবিনা আক্তার ও বাড়ির লোকজন মুমূর্ষু অবস্থায় জামিলকে উদ্ধার করে ভালুকা হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান।
ভালুকা মডেল থানার ওসি মামুন অর রশিদ জানান, নিহতের স্ত্রীর সাথে কথা বলে জানা যায়, জামিলের সাথে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে নিজে আত্মহত্যা করার আগে মেয়েকে হত্যা করেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। পুরো বিষয়টিতে অন্য কোনো বিষয় জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ভালুকা থানায় হত্যা ও অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
জামিলের বাবা নূর মোহাম্মদ জানান, আমার ছেলে স্থানীয় এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিল। ঋণ পরিশোধ নিয়ে সে কিছুদিন যাবত্ মানসিকভাবে অস্থির ছিল। তার সাখাওয়াত হোসেন (১১) ও শাহপরান (৪) নামে দুই ছেলে রয়েছে।
