মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের লবিতে একটা ছোট সংগ্রহশালার মতো আছে। দেয়ালে দেয়ালে বাংলাদেশের ক্রিকেটের কিছু স্মরণীয় মুহূর্তের ছবি। আর একটা লম্বা শোকেসে বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন দলের জেতা ট্রফিগুলো আছে। এই শোকেসে কোনো বিশ্বকাপ নেই; থাকার কথাও না। এবার শোকেসটার সেই আফসোস দূর করে দেয়ার দুয়ারে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ যুব দল। আর মাত্র একটি ধাপ পার হলেই সেই ট্রফির লড়াইয়ে নামতে পারবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
ট্রফি লড়াই, মানে ফাইনালে পৌঁছানোর স্বপ্ন নিয়ে আজ যুব বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে সকাল নয়টায়। ইতোমধ্যে ফাইনালে পৌঁছে অপেক্ষায় আছে ভারত।
যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নতুন কোনো শক্তি নয়। এর আগে অনেকবারই এই টূর্নামেন্ট বাংলাদেশ যুব দল শুরু করেছে ফেভারিট হিসেবে। কিন্তু মূল পর্বের কোয়ার্টার ফাইনাল পার করে সেমিফাইনাল অবধি আসা হয়নি কখনো। এবার বাংলাদেশ প্রবল প্রতাপ দেখিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকাকে ছিটকে দিয়ে অপরাজিতভাবেই এসেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। সেখানে নেপালকে কোনো অঘটনের সুযোগ দেয়নি। এখন সামনে চেনা প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এই বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বাংলাদেশ যুব দল হোয়াইট ওয়াশ করেছে তিন ম্যাচের সিরিজে। ফলে এমনিতে এই দলটির এমন কোনো হুমকি হওয়ার কথা নয় বাংলাদেশের জন্য।
তারপরও আজ ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে বাংলাদেশকে মূলত ভাবতে হচ্ছে দলটির পেস শক্তির কথা। বিশেষ করে তরুণ ফাস্ট বোলার জোসেফ হুমকি হয়ে উঠতে পারেন তুলনামূলক পেস বোলিংয়ে দুর্বল বাংলাদেশের টপ অর্ডারের জন্য। অবশ্য কোচ মিজানুর রহমান বাবুল ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ মনে করছেন, পেস নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তার কিছু নেই। তাদের ব্যাটসম্যানরা জোসেফদের খেলার জন্য তৈরি।
অন্য দিকে বাংলাদেশের তুরুপের তাস অবশ্যই স্পিন বোলাররা। এমনিতেই বাংলাদেশের এই দলটার প্রধান শক্তি স্পিন। তার ওপর অ-উপমহাদেশীয় প্রতিপক্ষ বলে সে শক্তি আজ আরও বেশিই কাজে লাগবে। তবে সাফল্যটা অনেকটাই নির্ভর করছে মিডল অর্ডারে শান্ত, মিরাজ, সাইফ, জাকিরদের ব্যাটের ওপর। টূর্নামেন্ট জুড়ে রানে না থাকা পিনাক, জয়রাজদের জন্যও এটা সুযোগ দলকে চূড়ান্ত বন্দরে পৌঁছে দেয়ার।