মুম্বাই হামলা পরিকল্পনাকারী লস্কর ই তাইয়্যেবার সদস্য ডেভিড কোলম্যান হেডলি বলেছেন ভারতে জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা করতে তাকে অর্থায়ন করেছে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত আমেরিকান এই জঙ্গি বৃহস্পতিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কারাগার থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মুম্বাইয়ের একটি বিশেষ আদালতে দেয়া সাক্ষ্যে এই কথা জানান।
হেডলি বলেন, ভারতে জঙ্গি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে অর্থায়ন আইএসআই এর মেজর ইকবাল ও লস্কর ই তাইয়্যেবাতে ইকবালের ডান হাত সাজিদ মিরের মাধ্যমে তিনি অর্থ পেতেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে তার সঙ্গে ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করা লস্কর সদস্য তাহাওউর রানাও সঙ্গে ছিলেন তার। রানা তাকে ২০০৬ সালের অক্টোবরে ৬৭ হাজার ৬০৫ টাকা রূপি দিয়েছিলেন এবং এর পরের মাসে দিয়েছিলেন আরো ৫০০ ডলার। এরপর ডিসেম্বর মাসে তাকে আরো ১ হাজার ডলার দেয়া হয়।
হেডলি জানান, ভারতে আসার আগে তাকে ২৫ হাজার ডলার দেয়া হয়েছিল। এছাড়া তাকে পাকিস্তানি মুদ্রায় ৪০ হাজার ও ভারতীয় মুদ্রায় ২০০০ রূপি দেন মেজর ইকবাল। লস্করের সদস্য মেজর পাশা তাকে ৮০ হাজার রূপি দেন যেখানে ১৫০০ রূপি দেন ইকবাল। হেডলি আরো জানান, ইকবাল তাকে বেশ কয়েকবার জাল ভারতীয় মুদ্রা দিয়েছিলেন।
হেডলি ২০০৪ সালে পুলিশ এনকাউন্টারে নিহত ইশরাত জাহানকে লস্করের আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী হিসেবে অভিহিত করেন। সেই সময়ে তার মৃত্যু নিয়ে অনেক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল এবং বেশ কয়েকজন পুলিশকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। হেডলি লস্করের একটি নারী উইংয়ের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, রানা মুম্বাইয়ের ২৬/১১ আক্রমণের আগে সেখানে গিয়েছিলেন এবং আক্রমণের আগেই নেতাদের পরামর্শে সেই স্থান ছেড়ে যান।
এর আগে তিনি আদালতকে জানান, ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাকে ব্যবসায়ী একাউন্ট খোলার আবেদন নাকচ করেছিল ২০০৭ সালে। আইএসআই ও লস্কর থেকে পাওয়া অর্থ তিনি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও অন্যান্য জঙ্গি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার পাশাপাশি একটি ব্যবসা খোলার চেষ্টা করেন তিনি। এই অর্থ দিয়ে মুম্বাইয়ের দক্ষিণে তারদেও এলাকায় ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে একটি অফিস খুলেন। তাকে ভুয়া তথ্য দিয়ে ভারতীয় ভিসা তৈরি করে দেয়া শিকাগোর রেমন্ড স্যান্ডার্স কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদন করার কাজটি করতেও সহায়তা করেন তবে সেই আবেদন নাকচ হয়।
তারদেও এর সেই অফিসের মাসিক ভাড়া ছিল ১৩ হাজার ৫০০ রূপি। বৃহস্পতিবারে হেডলির ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাক্ষ্য প্রদান ছিল গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই জেরার ধারাবাহিকতা। বুধবার ভিডিও লিংকে কারিগরি সমস্যার কারণে বিরতি নেয়া হয়েছিল।
