তিন লাখ টাকা ঘুষ, ১৫ হাজার ভ্যাট!

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ০৩:০২
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। রাজনৈতিক মামলায় হাজিরা দিয়ে গাজীপুর কোর্ট থেকে যাচ্ছিলেন। হঠাত্ পেছন থেকে এক ব্যক্তি ঝাপটে ধরে তাকে। তাত্ক্ষণিক ভয়ার্ত কণ্ঠে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কে আপনি? ঝাপটে ধরা লোকটি বলল, ‘কেন? দেইখ্যা মনে হয় না আমি পুলিশ। আমার নাম আজাদ। শ্রীপুর থানার আজাদ দারোগা (এসআই আবুল কালাম আজাদ)। যারে ধরি তারে বেজাত করে ছাড়ি।’ বিএনপি নেতার প্রশ্ন– ‘আমাকে ধরলেন কেন, আমার কি অপরাধ? তুই বেটা বিএনপি’র লোক এটাই তোর অপরাধ’ এই বলে এসআই আজাদ টেনে হেঁচড়ে থানায় নিয়ে গেল।
 
বুধবার রাতের এ ঘটনায় নানা দেনদরবারের পর ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা ঘুষ পরিশোধ করে ছাড়া পান শ্রমিকদলের এই নেতা। কৌতূহল নিয়ে এই নেতা এসআই আজাদের কাছে প্রশ্ন করেছিলেন– ‘স্যার ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা কেন? এটা কেমন হিসাব। দারোগা সাহেব জানালো ৩ লাখ ঘুষ আর ১৫ হাজার টাকা ভ্যাট! এই ঘটনাটি যিনি ঘটিয়েছেন সেই এসআই আবুল কালাম আজাদ গত ৩১ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জে বদলি হয়ে গেছেন। অথচ তিনি শ্রীপুর থানাতেই দায়িত্ব পালন করছিলেন। এবং থানার মধ্যে একজনকে আটকে ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নিলেন।
 
বিষয়টি প্রথমে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান। ঢাকা থেকে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের কোনো ঘটনা আমার থানায় ঘটেনি। এসআই আজাদ ১৫/২০ দিন আগে বদলি হয়ে নারায়ণগঞ্জ চলে গেছেন। তিনি এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।’
 
ওসির সঙ্গে কথা বলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই এ প্রতিবেদককে এসআই আজাদ ফোন করে বিকাশে কিছু টাকা দেয়া দেয়ার প্রস্তাব দেন। এরপর বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে ওসিকে আবার ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘একজন অফিসার বদলি হয়ে গেলেই তো আর চলে যেতে পারেন না। তার কাছে অনেক মামলা থাকে, অনেক কিছু বুঝিয়ে দেয়ার ব্যাপার থাকে। থানায় বসেই সেই কাজ করতে হয়। সে যদি অপরাধ করে থাকে তাহলে দায় তার। এর জন্য অন্যরা তো দায়ী নয়।’
 
কিন্তু আপনার থানায় বসে বদলি হওয়া একজন কর্মকর্তা কিভাবে আপনার প্রশ্রয় ছাড়া এমন অপকর্ম করে- এমন প্রশ্ন শুনতেই অসুস্থতার কথা বলে দ্রুত ফোন রেখে দেন ওসি। 
 

এ তো গেল একটি ঘটনা। শ্রীপুরে প্রতিদিন অবৈধ গ্যাস সংযোগের ব্যবসা চলছে। যারা টাকা দিচ্ছে তাদেরটা কেউ দেখছে না। টাকা না দিলে বৈধ হোক আর অবৈধ হোক পুলিশ তাদের ধরছে। টাকা দিলে আবার বৈধ হয়ে যাচ্ছে। এমন একটি ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়ির গ্যাস লাইন থেকে চুলা লাগানোর সময়। সূত্র জানায়, দারোগা মনির মাওনা চৌরাস্তার এক বাড়ি থেকে দু’ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে আসে থানায়। সারাদিন আটকে রাখার পর রাতে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দেয়ার পর তাদের দু’জনকে ছেড়ে দেয়া হল। এর মধ্যে এক লাখ টাকা চাঁদা ও ১০ হাজার টাকা ভ্যাট! এসব ঘটনায় সম্প্রতি এসআই মজিবুরকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে।