যশোরে পুলিশের বিরুদ্ধে ৪০ পরিবারকে উচ্ছেদের অভিযোগ

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ২২:৪৫
যশোর শহরের গাড়িখানা এলাকায় সরকারিভাবে বরাদ্দ নিয়ে শত বছর ধরে বসবাসকারী ৪০টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে অভিযাগ পাওয়া গেছে। এসব পরিবারের সদস্য শুক্রবার তাদের বাড়ি ঘর ছেড়ে চলে যায়।
 
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, সরকারি এই জমি বরাদ্দ নিয়ে শতবছর বংশ পরম্পরায় তারা বসবাস করে আসছেন। হঠাৎ করেই পুলিশ ‘সন্ত্রাসী মামলার ভয় দেখিয়ে’ তাদের উচ্ছেদ করেছে। সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে পুলিশ ক্লাব।
 
শুক্রবার গাড়িখানা রোড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সরকারি জমিতে বসবাসকারী পরিবারগুলো নিজেরাই ঘরবাড়ি ভেঙ্গে আসবাবপত্রসহ বাড়ির জিনিসপত্র নিয়ে চলে যাচ্ছে। একইসাথে সেখানে পুলিশের প্রহরায় চলছে দেয়াল নির্মাণের কাজ।
 
উচ্ছেদের শিকার গৃহবধূ সালমা বেগম জানান, ভয়-আতঙ্কে গত তিনদিন তাদের খাওয়া নেই। সকাল বিকেল পুলিশ এসে হুমকি দিয়ে জায়গা খালি করতে বলছে। তাই তারা চলে যাচ্ছেন। আরেক গৃহবধূ হালিমা খাতুন জানান, একশ বছর ধরে তার পূর্বপুরুষরা এই জমি বরাদ্দ নিয়ে বসবাস করে আসছেন। হঠাৎ করে পুলিশ এই জমি তাদের দাবি করে হুমকি ধামকি দিয়ে চলে যেতে বলেছে।
IMG0
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, ১৯১০ সালে শহরের গাড়িখানা রোড এলাকার সরকারি জমি বরাদ্দ নিয়ে গোপীনাথ রায় চৌধুরী, মাসুদ আলম, আসাদুজ্জামান শিপলুসহ বেশ কয়েকজন বংশানুক্রমে ভোগ দখল করে আসছেন। কিন্তু জেলা প্রশাসন থেকে বরাদ্দ দেয়া জমিটি নিজেদের দাবি করে পুলিশ। বিষয়টি আদালতেও গড়ায়। নিম্ন আদালতে পুলিশ হেরেও যায়। বর্তমানে মামলাটি জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে চারদিন আগে রাতের অন্ধকারে বেশ কয়েকটি দোকান দখল করে দেয়াল তুলে পুলিশ ক্লাবের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়। এরপর আবাসিক ভবন থেকে বাসিন্দাদের  হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন। বৃহস্পতিবার এসব ঘটনা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সংবাদ সম্মেলনও করে। কিন্তু কোথাও কোনো আশ্রয় না পেয়ে অবশেষে শুক্রবার তারা বাড়িঘর ছাড়তে শুরু করে।
 
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে জেলা পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর) মীর মোহাম্মদ সাফিন মাহমুদ পুলিশ সুপারের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানের মোবাইলে বৃহস্পতি ও শুক্রবার রিং করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। যশোরের জেলা প্রশাসক ড. মো. হুমায়ুন কবির ইত্তেফাককে জানান, জমিটির বর্তমান অবস্থা জানতে এডিসি রাজস্বকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আমাদের জমি হলে আমরা উদ্ধারের জন্য মামলা করব।