এটিএম কার্ড জালিয়াতিতে ব্যাংকে সতর্কতা

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ২২:০১
 
গত শুক্রবার ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) এটিএম বুথে জালিয়াতির ঘটনার পর অন্যান্য ব্যাংকগুলোও সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এটিএম কার্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছে ব্যাংকগুলো। কেউ এটিএম বুথ বন্ধ রেখে, আবার কেউ উত্তোলন সীমা কমিয়ে জালিয়াতি রোধের চেষ্টা করছে। বুথের নিরাপত্তা প্রহরীদেরও সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রায় সবগুলো ব্যাংক।
 
জানা গেছে, ইবিএলের কয়েকজন গ্রাহকের হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে মর্মে তাদের মোবাইলে এসএমএস যায়। এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার বেলা ১২টা থেকে ৬ ঘণ্টা তাদের এটিএম বুথ বন্ধ করে রাখে। পরে সন্ধ্যায় লেনদেন আবার স্বাভাবিক হয়। ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচের (এনপিএস) অধীনে অন্য ব্যাংকের বুথ থেকেও ওই সময়ে ইবিএল কার্ড দিয়ে টাকা তোলা যায়নি। 
 
এমন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার থেকে সতর্ক রয়েছে ব্যাংকগুলো। শুক্রবার বেশীরভাগ ব্যাংকের এটিএম বুথের সেবা ছিল বন্ধ। শনিবার সেবা চালু করা হলেও উত্তোলন সীমা কমিয়ে ফেলেছে ব্যাংকগুলো। 
 
কার্ড সেবার সঙ্গে জড়িত শীর্ষ একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা জানান, গ্রাহক সেজে হ্যাকাররা বুথে গিয়ে ক্যাশ মেশিনে ছোট শক্তিশালী ডিভাইস (স্ক্যামিং ডিভাইস) রেখে আসে, এর মাধ্যমে কাডের নম্বর, পিন ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর তাদের নামে কার্ড তৈরী করে জালিয়াতি করা হয়। গ্রাহক সেজে এমনটি করায় ধরাও সম্ভব হচ্ছে না। পৃথিবীর অন্য দেশেও এমনটি হয়।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা জানিয়েছেন, কয়েকটি ব্যাংকের ক্যাশ মেশিনে স্ক্যামিং ডিভাইস লাগিয়ে রেখেছিল কেউ। যে দুই-তিন দিন এ স্ক্যামিং ডিভাইস লাগানো ছিল, সেসময় যেসব গ্রাহক এ মেশিনগুলো ব্যবহার করেছেন তাদের কার্ডের তথ্য চুরি হয়ে গেছে। আমরা যতটুকু বুঝতে পারছি এরকমই কিছু ঘটেছে।
 
শনিবার সকালে ওয়ান ব্যাংকের গ্রাহকদের কাছে এসএমএস দিয়ে জানানো হয়, প্রযুক্তিগত মেরামতের জন্য কার্ডের দৈনিক উত্তোলন সীমা ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। শুক্রবার কিছু সময় সেবা বন্ধও রেখেছিল ব্যাংকটি। এ বিষয়ে ওয়ান ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াকার হাসান বলেন, অন্য ব্যাংকে জালিয়াতি হয়েছে, এমনটা জানার পর উত্তোলন সীমা কমিয়ে ফেলা হয়েছে। রবিবার পর্যন্ত দেখা হবে, যদি সব স্বাভাবিক থাকে, তাহলে সীমা আগের মতোই থাকবে। 
 
এদিকে বেসরকারি খাতের এনসিসি ব্যাংকও শুক্রবার এটিএম সেবা বন্ধ করে দেয়। পরে শনিবার থেকে আবারো সেবাটি চালু করেছে ব্যাংকটি। এ বিষয়ে এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম হাফিজ আহমেদ বলেন, শুক্রবার জালিয়াতির ঘটনা শোনার পর এটিএম সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিষয়টি সব গ্রাহকদের আমরা জানিয়ে দিয়েছি। শনিবার পরিস্থিতির উত্তরণ হওয়ায় আমরা সেবা পুনরায় চালু করে দিয়েছি। 
 
আইএফআইসি ব্যাংকও শুক্রবার কিছু সময়ের জন্য এটিএম লেনদেন বন্ধ রেখেছিল। আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সারওয়ার বলেন, শুক্রবার কিছু সময়ের জন্য সেবাটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে চালু করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনা শোনার পর প্রাইম ব্যাংকও কিছু সময়ের জন্য এটিএম সেবা বন্ধ রাখে।
 
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী বলেন, ব্যাংকের পক্ষে কোন নিরাপত্তা ত্রুটি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আরোও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হবে।