শার্শায় বাণিজ্যিকভাবে কবুতর পালন করে পাঁচ শতাধিক যুবক স্বাবলম্বী

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ০৮:২২
 
শার্শা উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে কবুতর পালন করে পাঁচ শতাধিক যুবক স্বাবলম্বী হয়েছে। তাদের দেখাদেখি দিন দিন কবুতর পালনের ব্যবসা সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ পেশায় লোকজন বাড়ছে। এ উপজেলায় ২০ প্রজাতির কবুতর পালন করছেন খামারীরা। এদের মধ্যে পালিশ আউল, মুক্কি, বিউটি ডোমার, নান, শটফেজ, নাল এসব বিদেশি জাতের কবুতরের দাম প্রতি জোড়া ২০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। দেশীয় উন্নত প্রজাতির লক্ষা, গ্রীবাজ, লোটন, সিরাজী, ময়ূরী, জিলানী, পরশ, শোয়া, চন্দন, ক্যাপটান, র্যান, রান, বাজরিকা, মনিরা, কালদম, কিং ও সিলভার সিরাজী জাতের প্রতি জোড়া কবুতরের দাম দুই হাজার থেকে ছয় হাজার টাকা।
 
শার্শার যাদবপুর গ্রামের মাহফুজুর রহমান মন্টু দুই বছর আগে সখের বশে দশ হাজার টাকার কবুতর কিনে এ পেশায় আসেন। বর্তমানে তার খামারটি উপজেলার সবচেয়ে বড় কবুতরের খামার। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সেখানে ৮০টি বড় খাঁচায় পালন করা হচ্ছে বিদেশি জাতের তিনশ কবুতর।
 
মন্টু জানান, সখের বশে এ পেশায় আসার পর আজ আমার মূলধন দাঁড়িয়েছে দশ লাখ টাকায়। বিদেশি জাতের প্রতিটি কবুতর ২১ দিনের মাথায় দু’টি করে ডিম দেয়। এ ডিম থেকে দেশি কবুতরের মাধ্যমে বাচ্চা ফোটানো হয়। এ ব্যবসা অন্য যে কোনো ব্যবসার চেয়ে লাভজনক। স্মার্টফোনের মাধ্যমে ছবি তুলে ফেসবুকের মাধ্যমে বিক্রি করি।
 
শার্শার পান্তাপাড়া গ্রামের সাহেব আলি জানান, লক্ষা, গ্রীবাজ, লোটন, সিরাজী, ময়ূরী ও সিলভার সিরাজী জাতের ৫০টি কবুতর রয়েছে আমার খামারে। দেশীয় সাধারণ জাতের চেয়ে এসব কবুতরের দামও অনেক বেশি। চাহিদাও রয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে পাখিপ্রেমীরা আসেন বিদেশি জাতের এসব কবুতর সংগ্রহ করতে। সখের বশে দুশ’ টাকা পুঁজি নিয়ে কবুতর পালন শুরু করলেও আজ বাণিজ্যিকভাবে পথ চলতে শুরু করেছি। আমার খামারে প্রায় দুই লাখ টাকার কবুতর রয়েছে। “প্রতিটি কবুতর বছরে অন্তত ২০টি বাচ্চা দেয়। রোগ-বালাই কম হওয়ায় এদের পেছনে খরচও কম। তাই এটি একটি লাভজনক ব্যবসা।”
 
বেনাপোলের কবুতর ব্যবসায়ী সুজন আলী ও নাভারনের আরসাদ আলী বলেন, কবুতরের বেচাবিক্রি ভালো। এটি একটি লাভজনক ব্যবসা। প্রতিজোড়া দেশি কবুতর বিক্রি হয় দু’শ টাকায়। তবে বিদেশি পালিশ আউল ও মুক্কি জাতের কবুতরের দাম সবচেয়ে বেশি। প্রতি জোড়া কবুতর দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। জার্মানের বিউটি ডোমার ও নাল জাতের কবুতর বিক্রি হয় ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকায়। শর্টফেজ বিক্রি হয় প্রতি জোড়া ২০ হাজার টাকায়।
 

উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা জয়দেব কুমার সিংহ জানান, অল্প পুঁজি ও স্বল্প জায়গা নিয়ে কবুতর পালন করা যায়। এখানে দেশীয় কবুতরের পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি জাতের ৮ হাজার ডিমপাড়া কবুতর রয়েছে।