চট্টগ্রাম বন্দরের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ঋণ করতে হবে

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ০৮:১০
চট্টগ্রাম বন্দরে গৃহিত প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নে আগামী ৫ বছরে ২২ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন পড়বে। বর্তমান শতকরা ১৮ ভাগ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন জরুরি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ জানান। কিন্তু বন্দরের নিজস্ব তহবিলে এ খাতের জন্য যে অর্থ রয়েছে তাতে প্রকল্পগুলোর সিকি ভাগও বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এজন্য বড় অংকের ঋণের প্রয়োজন পড়বে বলে কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন।
 
চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য সম্প্রতি প্রস্তুতকৃত ৩০ বছরব্যাপী মহাপরিকল্পনায় জরুরিভিত্তিতে কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। বিশেষ করে বে-টার্মিনাল, কর্ণফুলী কন্টেইনার টার্মিনাল (কেসিটি), এয়ারপোর্ট রোড সংলগ্ন টার্মিনাল ও ওভারপাস এবং লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে অগ্রাধিকার প্রকল্প বলে জানা যায়। এছাড়া ইতিমধ্যে নির্মিত নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) জন্য প্রায় ১২ শত কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি ক্রয় করার প্রক্রিয়া চলছে।
 
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উপরোক্ত জরুরি প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের জন্য বিশাল অংকের টাকার প্রয়োজন থাকলেও চট্টগ্রাম বন্দরে সে অনুপাতে টাকার যোগান নেই বলে জানা যায়। চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব তহবিলে বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার ২শ কোটি টাকা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩ হাজার কোটি টাকা প্রকল্পের জন্য ব্যয় করা সম্ভব। বাকি টাকা বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, পেনশনসহ অন্যান্য খরচ বাবদ নির্দিষ্ট করা রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান হিসাব ও অর্থ বিভাগের প্রধান হাবিবুর রহমান বলেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের অর্থসংস্থানে অবশ্যই স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের শরণাপন্ন হতে হবে।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরের বড় ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন চাহিদা অনুযায়ী ৬/৭ বছর অন্তর নেয়া হলেও ২০০৭ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত বড় আকারের কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এর অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ২০০৭ সালে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট গ্যান্ট্রক্রেন বা টার্মিনাল নির্মাণের মতো বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি এনসিটি প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে এর অপারেশন কাজ পূর্ণমাত্রায় শুরু করা যায়নি। এখনও এর জন্য গ্যান্ট্রিক্রেনসহ অন্যান্য ইকুইপমেন্ট ক্রয়ের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অথচ দিনদিন কন্টেইনার হ্যান্ডলিং-এর পরিমাণ বেড়েই চলেছে। গত বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর ২০ লাখ কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড গড়েছে। এমনকি লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ বেশি। চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য প্রস্তুত করা ৩০ বছরের মহাপরিকল্পনায় বলা হয়েছে ২০২৩ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বে-টার্মিনাল, কেসিটি’র নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় চট্টগ্রাম বন্দর তার স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখতে পারবে না। জানা যায়, মহাপরিকল্পনায় এমনও মন্তব্য করা হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর বর্তমান সুবিধায় যে পরিমাণ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করছে তা অতিরিক্ত করা হয়েছে।
 

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, গত বছর চট্টগ্রাম বন্দরের বার্ষিক আয় ছিল ১ হাজার ৭২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারকে রেভিনিউ বাবদ দেয়া হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫শ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে দেয়া হয়েছে ৪০ কোটি টাকা। সরকারের ফান্ডে ১২০ কোটি টাকা। এছাড়া অন্য সকল খরচ বাদ দিয়ে মূল আয় হয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। জানা যায়, উক্ত টাকার ওপর ভর করে গৃহিত বড় প্রকল্পগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তাই প্রকল্পের জন্য অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ করতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।