এমএসএন এর বন্ধুত্বের রাতে উড়ে গেল সেল্টা

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১২:০১
লুইস সুয়ারেজের হ্যাটট্রিক ও মেসি, নেইমার, রাকিতিচের তিন গোলে সেল্টাকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বার্সেলোনা। তবে ক্যাটালান দলটির গোল উৎসবের রাতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে গেল মেসি-সুয়ারেজের ‘বন্ধুত্ব’।
 
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে লা লিগার প্রথম পর্বের ম্যাচে সেল্টার মাঠে  ৪-১ গোলে হেরেছিল বার্সা। প্রতিশোধের লক্ষ্যে বার্সেলোনার ম্যাচের শুরুটা হতে পারতো দারুণ, কিন্তু তিন মিনিটের ব্যবধানে দুবার গোল পেতে পেতেও হতাশায় শেষ হয়। দ্বাদশ মিনিটে ২০ গজ দূর থেকে লিওনেল মেসির বাঁকানো ফ্রি কিক অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পর গোলরক্ষককে একা পেয়েও কাছ থেকে বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন নেইমার।
 
মেসির চমৎকার এক ফ্রি কিকে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। পাঁচবারের বর্ষসেরা তারকার শটটি শেষমুহূর্তে সামান্য বাঁক খেয়ে জালে জড়ায়। এবারের লা লিগায় পঞ্চমবারের মতো ফ্রি-কিক থেকে লক্ষ্যভেদ করলেন মেসি। লিগে তার মোট গোল হলো ১৩টি। এরপর আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠা লড়াইয়ে ৩৯তম মিনিটে ডি বক্সে ঢুকে পড়া সুইডেনের স্ট্রাইকার জন গুইদেত্তিকে স্বাগতিক ডিফেন্ডার জর্দি আলবা ফাউল করলে পেনাল্টি পায় সেল্টা। তা থেকে নিজেই দলকে এগিয়ে দেন সুইডেনের স্ট্রাইকার জন গুইদেত্তি।
 
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ৩০ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি সুযোগ হাতছাড়া হয় বার্সেলোনার, প্রথম মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েও ব্যর্থ হন নেইমার। পরে এই ব্রাজিলিয়ান তারকার পাসে সুয়ারেজের শট পোস্টে বাধা পায়। ৫৬তম মিনিটে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার শট ঠেকিয়ে দেন সেল্টার গোলরক্ষক। একের পর এক আক্রমণ করে যাওয়ার সুফল বার্সেলোনা পায় ৫৯তম মিনিটে। রক্ষণের উপর দিয়ে মেসির চিপ করে বাড়ানো বল ডি বক্সে পেয়ে প্রথম শটেই লক্ষ্যভেদ করেন সুয়ারেজ। এই অর্ধের এতক্ষণ সময় মূলত প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতেই ব্যস্ত থাকা সেল্টা ফের পিছিয়ে পড়ে ধীরে ধীরে পাল্টা আক্রমণে উঠতে থাকে। দুবার সুযোগও পেয়েছিল তারা, কিন্তু সাফল্য মেলেনি।
 
IMG0
 
এরপর ৭৫তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলে জয়টা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন সুয়ারেজ। গোলটির পুরো কৃতিত্বই নেইমারের, গোলরক্ষককে কাটিয়ে দুরূহ কোণ থেকে তার নেওয়া শটে গোললাইনের সামনে থেকে আলতো একটা ছোঁয়াতেই বাকি কাজটুকু সারেন লিভারপুলের সাবেক এই স্ট্রাইকার।
 
IMG1
আর ৮১তম মিনিটে ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেসি-সুয়ারেজ যেন গড়লেন নতুন কিছুর উদাহরণ। এবারের ফিফা ব্যালন ডি’অর জয়ীকে ডি বক্সের মধ্যে ডিফেন্ডার কাস্ত্রো ফেলে দিলে পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। স্পটকিক নিতে এগিয়ে এলেন মেসি নিজেই, দৌড়ে এসে শট নেওয়ার আগমুহূর্তে থেমে গেলেন, ছোট্ট একটা টোকা দিলেন আর ছুটে এসে জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে হ্যাটট্রিকের আনন্দে ভাসলেন সুয়ারেজ।
 
দুই শিষ্যের এমন কাণ্ড দেখে ডাগআউটে হাসিতে ফেটে পড়লেন কোচ লুইস এনরিকে। এ বছর সুয়ারেজের এটি তৃতীয় হ্যাটট্রিক। এরই সঙ্গে এবারের লিগের গোলদাতাদের তালিকায় ২৩ গোল নিয়ে ফের শীর্ষে উঠলেন তিনি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর গোল ২১টি। এর তিন মিনিট বাদে সুয়ারেজের বাড়ানো বল ধরে গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন ইভান রাকিতিচ।
 
আর সবশেষে ম্যাচের শেষ দিকে স্কোরশিটে নাম লেখান নেইমার। সুয়ারেজের বাড়ানো বল দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন নেইমার। লিগে এটি তার সপ্তদশ গোল। এই জয়ে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের সঙ্গে তিন পয়েন্টের ব্যবধান ধরে রাখলো বার্সেলোনা। শীর্ষে থাকা দলটির পয়েন্ট ২৩ ম্যাচে ৫৭। এক ম্যাচ বেশি খেলা দিয়েগো সিমিওনের দলের পয়েন্ট ৫৪। তৃতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট ৫৩। গোল.কম।