যাত্রী পরিবহনেও উন্মুক্ত হচ্ছে বাংলাবান্ধা বন্দর

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ০০:০৯

পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি যাত্রী পরিবহনের জন্যও উন্মুক্ত করা হচ্ছে দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থল বন্দর। ফলে বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিবেশী চার দেশ ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিস্তৃত হবে। যদিও সড়ক যোগাযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে ঐ চার দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। অবশ্য চুক্তি সম্পাদনের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

 
প্রসঙ্গত, গত ১৬ ও ১৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও ভারতের স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাবান্ধা সীমান্তের স্থল বন্দর মানুষ যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে স্থল বন্দর মানুষ যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও ভারতের কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ড. বিজয় কুমার সিংহ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাবান্ধা সীমান্তে উপস্থিত থেকে এর উদ্বোধন করবেন।
 
মূলত নেপালের সঙ্গে দূরত্ব কম হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে দু’দেশের ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর চালু করা হয়। ফলে ভারত ও নেপালে পণ্য আনা-নেয়া এবং সরকারের রাজস্ব আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। যা আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণেও কার্যকর ভূমিকা রাখে। সর্বশেষ হিসাবে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এই বন্দর দিয়ে ৫২ লাখ টন পণ্য আমদানি হয় এবং রফতানি হয় প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ টন পণ্য।
 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ইত্তেফাককে বলেন, এতদিন এ সীমান্ত দিয়ে শুধু ভারত ও বাংলাদেশের পণ্যবাহী যানবাহন         যাতায়াতের সুযোগ ছিল, এখন থেকে মানুষও ইমিগ্রেশন নিয়ম মেনে উভয় দেশে যাওয়া-আসা করতে পারবেন।
 
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান ইত্তেফাককে জানান, সিদ্ধান্ত গ্রহণের খুব কম সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে শুল্ক, ইমিগ্রেশনসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কাঠামো বাস্তবায়নের কাজ শেষ হয়েছে।
 
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুস্তফা কামাল বলেন, বাংলাবান্ধা থেকে সড়কপথে চীনের দূরত্ব কমবেশি ১০০ কিলোমিটার, ভুটানের ৬০ কিলোমিটার এবং  নেপালের দূরত্ব ৮০ কিলোমিটারের মতো। তবে ভারতের সড়ক ব্যবহার করে নেপাল বা চীনে যেতে চারদেশীয় আঞ্চলিক চুক্তির প্রয়োজন রয়েছে। এ নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানান তিনি।
 
অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক বাণিজ্য হার খুবই কম। এই হার এখনো ৫ শতাংশের কম। আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে নতুন এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করেন।
 
বর্তমানে বাংলাদেশে ২২টি স্থল বন্দর রয়েছে। এরমধ্যে ১০টি স্থল বন্দর পূর্ণাঙ্গরূপে কাজ করছে। অন্যগুলোর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। যেসব স্থল বন্দর দিয়ে মানুষসহ পণ্যবাহী যানবাহন পারাপার হয় সেগুলো হচ্ছে বুড়িমারী, সোনামসজিদ, হিলি, ভোমরা, বেনাপোল, আখাউড়া, শেওলা, হাতিবান্ধা, তামাবিল ও জকিগঞ্জ। এরমধ্যে বেনাপোল, তামাবিল ও আখাউড়া পথে যাত্রীবাহী পরিবহন সরাসরি যাতায়াত করে।