জেলার পানছড়ি উপজেলার তালতলা এলাকা থেকে অজ্ঞাতনামা একদল সন্ত্রাসী কর্তৃক সড়ক উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার সাইফুউদ্দিন শাহীন গাজী ও ম্যানেজার রহুল আমীনকে অপহরণের পাঁচদিন পরেও উদ্ধার করা যায়নি। অপহরণকারীরা মুক্তিপণ হিসেবে স্বজনদের কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার সকাল ১১ টার দিকে এ অপহরনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন আল-আক্কাস ট্রেডিং করপোরেশন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক নাসির মল্লিক।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল জব্বার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও কেউ অভিযোগ না করায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেন।
আল-আক্কাস ট্রেডিং করপোরেশন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক নাসির মল্লিক সাংবাদিকদের জানান, খাগড়াছড়ির পানছড়ি-গৌরাঙ্গ পাড়া সড়কে তার ১৪ কিলোমিটার সড়কে প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ টাকার কাজ চলছিল। তার নির্মাণ সংস্থার পক্ষে কাজটি তদারকি করছিলেন ঠিকাদার সাইফুউদ্দিন শাহীন গাজী ও ম্যানেজার রহুল আমীন। কাজ চলাকালে স্থানীয় একদল সন্ত্রাসী একটি পাহাড়ি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের নামে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। একটি সূত্র জানায়, শনিবার বিষয়টি মীমাংসা হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে সন্ত্রাসীরা সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিলে ১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ত্রাসীদেরকে একটি মোবাইল সেট কিনে দেয়া হয়। পরের দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি ঠিকাদার সাইফুউদ্দিন শাহীন গাজী ও ম্যানেজার রহুল আমীন তাদের দুইজনকে তালতলা এলাকায় আবার দেখা করার জন্য খবর দিলে তারা ভাড়ায় চালিত একটি মোটরসাইকেলে সেখানে যায়। এদিকে মোটর সাইকেলের চালক দেলোয়ার হোসেন জানান, তিনি দুইজনকে তালতলা এলাকায় পৌঁছে দেয়ার পর চার অস্ত্রধারী যুবক দুজনকে রেখে তাকে চলে যেতে বলে।
আল-আক্কাস ট্রেডিং করপোরেশন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক নাসির মল্লিক সাংবাদিকদের জানান, অপহরণের দুইদিন পর সন্ত্রাসীরা মোবাইল ফোনে তাদের মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে। গত কয়েক দিনে অপহরণকারী ও অপহৃতদের সঙ্গে কয়েক দফা কথা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মো. মজিদ আলী জানান, অপহৃতদের আত্মীয়-স্বজনরা বা সংশ্লিষ্ট নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের লোকজন থানায় মামলা বা কোনো অভিযোগ না করায় অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছেনা।
