ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ২১:৪১
 
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা সেতু থেকে শিমরাইল মোড় পর্যন্ত মহাসড়কের উভয় পার্শ্বে ৩০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত এ যানজট ছিল।
 
যানজটের কবলে পড়ে শতশত যাত্রীরা পায়ে হেটে গন্তব্যে পৌঁছেছে। কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত রাস্তা পাড় হতে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা সময় লেগে যায়। মহিলা ও বয়স্ক যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে।
 

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি শেখ শরীফুল আলম জানান, আগামী  তিন দিন সরকারি ও বেসরকারি চাকুরিজীবিরা ছুটি পেয়ে তাদের নিজ বাড়ি যাচ্ছেন। তাছাড়া মেঘনা সেতুতে একটি ট্রাক বিকল হওয়ার কারণে মহাসড়কের অন্যান্য দিনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি গাড়ির চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে বৃহস্পতিবার রাত থেকে মহাসড়কে অন্যান্য দিনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি যানবাহন চলাচলের কারণেই যানজটের সৃষ্টি। তবে কিছুক্ষণ পরই বিকল হওয়া ট্রাকটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তাছাড়া মহাসড়কের মেঘনা ও  মেঘনা গোমতি সেতুতে টোল আদায়ে ধীরগতির কারণে আরো বেশি যানবাহনের চাপ পড়ে যায়। ফলে ধীরে ধীরে উভয়পার্শ্বে যানবাহনের লাইন দীর্ঘ হতে থাকে। পরে বিকেল পাঁচ টার পর থেকে যানবাহনের চাপ কিছুটা কমে আসতে দেখা যায়। ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত মহাসড়কের একাংশ দখল করে দোকান পাঠ নির্মান, মহাসড়কের উপর গাড়ী থামিয়ে চাঁদাবাজদের চাঁদাবাজি, অবৈধ সি.এন.জি চালিত অটোরিক্সা, টেম্পু ও ফিটনেস বিহীন লেগুনা মহাসড়কের উপর  স্ট্যান্ড স্থাপন করায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়। চট্টগ্রামগামী হানিফ পরিবহনের বাস চালক আনোয়ার হোসেন জানান, কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত আসতে সময় আমাদের প্রায় ৫ ঘন্টা সময় লেগে যায়। মহাসড়কের গাড়ীর চাপ বেশি থাকার কারণে এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া শিমরাইল থেকে কাঁচপুর ও মদনপুর এলাকায় দুটি সিগন্যাল পার হয়ে আসতে হয়েছে। ফলে যানজট আরো দীর্ঘ হয়েছে। সরকারি চাকুরীজীবী কুমিল্লাগামী যাত্রী আবুল হোসেন জানান, সরকারি ছুটি বেশি দিন থাকার কারণে বাড়িতে বাবা-মার সাথে একটু সময় কাটানোর জন্য স্ব-পরিবারে বাড়ি যাচ্ছেন। রাত সাড়ে ১২টায় তিনি কমলাপুর থেকে বাসে উঠে সকালে ছয়টার দিকে মেঘনা টোল প্লাজায় এসে পৌঁছেন। মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার ব্যবসায়ী নূরে আাালম মোল্লা জানান, মহাসড়কে যানজট থাকার কারণে কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। এমন দৃশ্য ঈদের ছুটিতেও দেখা যায় না। এ যানজটের কারণে স্থানীয় অনেককে পায়ে হেঁটে যেতে হয়েছে। ভবেরচর এলাকায় ঢাকাগামী তিশা পরিবহনের হেলপার আবুল কাশেম জানান, যানজট ও অতিরিক্ত গরমের কারণে অনেক যাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পরেছে। মেঘনা টোল প্লাজার টোল আদায়কারী সৈয়দ শফিকুল ইসলাম জানান, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ এতোই বেশি যে স্বাভাবিক গতিতে টোল আদায় করেও যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ সামাল দেয়া যাচ্ছে না। শুক্রবার সন্ধ্যার পরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।