মহাকাশে অভিযাত্রা একটি সময় ছিল শুধু কয়েকটি দেশের জাতীয় গর্বের বিষয়। আর মহাকাশে যাওয়ার সৌভাগ্য জুটতো শুধু নভোচারীদের। কিন্তু হয়তো শিগগিরই সৌভাগ্য হতে পারে সাধারণ কোন মানুষের।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অঢেল পয়সার মালিক হলে আপনিও মহাকাশে বেড়াতে যেতে পারবেন। সেই ভবিষ্যতের দিকে একটু একটু করে এগুচ্ছে পৃথিবী। আর সে নিয়ে ইদানীং বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় নেমেছে বেশ কয়েকটি কোম্পানি।
কিভাবে চলছে মহাকাশে পর্যটনের প্রতিযোগিতা:
দেখতে খানিকটা ছোট প্রাইভেট জেটের মতো। একটা গাড়ি দিয়ে তাকে মঞ্চে টেনে আনা হচ্ছে। গাড়িতে রয়েছেন ভার্জিন গ্যালাকটিকের মালিক স্যার রিচার্ড ব্র্যানসন। নিজের কোম্পানির তৈরি নতুন স্পেসশিপ VSS ইউনিটিকে বিশ্বের সামনে প্রথমবারের মতো উপস্থাপন করলেন তিনি।
বাণিজ্যিকভাবে তারার দেশে মহাকাশযান পাঠানোর কাজের শুরুটা অবশ্য অতটা সহজ ছিলো না ভার্জিন গ্যালাকটিকের জন্য। দুই বছর আগে পরীক্ষামূলক যাত্রার সময় মরুভুমিতে বিধ্বস্ত হয়েছিল স্পেস শিপটির আগের ভার্শন এন্টারপ্রাইজ। নিহত হয়েছিল তার পাইলট। কিন্তু তাতে থেমে যাননি স্যার রিচার্ড ব্র্যানসন।
ভার্জিন গ্যালাকটিক বলেছেন, ১৫ মাস আগে আমরা যে বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছিলাম তাতে আমরা অনেকটাই পিছিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু ঘটনার পরদিন থেকেই সবাই আবার নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছিল। এই মহাকাশযানটিকে তৈরি করতে তারা দিন রাত্রি অবিরাম কাজ করেছে। যার ফল হলো আমরা VSS ইউনিটিকে তৈরি করতে পারলাম।
পৃথিবী থেকে ১০০ কিলোমিটার উপরে যাত্রার ক্ষমতা দিয়ে বানানো হয়েছে ইউনিটি। এর যাত্রী ধারণ ক্ষমতা মোটে ছয়জন। অন্য মহাকাশযান সরাসরি ভূমি থেকেই যাত্রা শুরু করে। কিন্তু ইউনিটিকে মহাকাশ পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে আসবে অন্য আর একটি বাহন যাকে বলা হচ্ছে মাদারশিপ।
মহাকাশে বেড়াতে যাওয়ার জন্য ইতোমধ্যেই টিকিট কিনেছেন কয়েকজন। ব্যাপক ধৈর্য্য ধরে তাদের অপেক্ষাও করতে হচ্ছে।
