একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাজশাহীর পদ্মায় চরের বুকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বর্ণমালাসহ নানান ভাস্কর্য। বালুর বুকে পরিপাটি করে ফুটিয়ে তুলেছেন রাজশাহী আর্ট ক্লাবের তরুণ প্রজন্মের শিল্পীরা। নগরীর দরগাপাড়া সংলগ্ন পদ্মা ধারের এই আয়োজন দেখতে রবিবার দিনভর বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ভিড় জমায়।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে তারা এসব ভাস্কর্য তৈরি করছেন। রাত-দিন কাজ করেছেন তারা। একুশের প্রথম প্রহরের আগেই এসব বালির ভাস্কর্য তৈরির কাজ শেষ হয়। পরে তা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ভাস্কর্য শিল্পীরা জানান, মায়ের ভাষার জন্য আত্মত্যাগের ইতিহাস পৃথিবীতে বিরল। এ ইতিহাস কেবল বাঙালিরই রয়েছে। আর এ কারণেই একুশের মিলেছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
বহু ত্যাগ-আত্মত্যাগের বাংলা ভাষা এখনো নানাভাবে অবহেলিত। বিশ্ব দরবারে নতুন করে বাংলা ভাষা ও এর ইতিহাস তুলে ধরতেই তাদের এ প্রয়াস। এতে নতুন প্রজন্মও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সম্পর্কে জনতে পারবে।
প্রবীণ ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন জানান, ভাষা আন্দোলনে প্রথম রক্ত ঝরেছিল রাজশাহীতে। ভাষা শহীদের স্মরণে দেশের প্রথম শহীদ মিনারও গড়ে ওঠে রাজশাহী কলেজের মুসলিম হোস্টেলের গেটের কাছে। এটি গড়ে তোলেন রাজশাহী কলেজের তৎকালীন শিক্ষার্থীরা। এমনটি উঠে এসেছে অন্যান্য ভাষা সৈনিকদের লেখা ও বিভিন্ন সময়ের বক্তৃতায়।
বাহান্নর মায়ের ভাষার মান বাঁচাতে বুকের তাজা রক্ত ঢেলেছেন রফিক, শফিক. সালাম, জব্বার, বরকতসহ নাম না জানা আরো অনেকেই। অবশেষে মায়ের ভাষার মান বেঁচেছে। এরই পথ ধরে এসেছে দেশমাতৃকার মুক্তির ডাক। এসেছে শাসকের শেকল থেকে মুক্তি, লাল সবুজ পতাকা এবং একটি মানচিত্র।
