মাগুরায় শহীদ মিনারে ছাত্রলীগের ২ পক্ষের সংঘর্ষ

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ০০:০৪
যশোর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একুশের প্রথম প্রহরে বোমাবাজি ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার পর গতকাল রবিবার ভোরে পুলিশ এমএম কলেজের আসাদ হলে অভিযান চালিয়ে বহিরাগত ১০ জনকে আটক এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। শহীদ মিনার এলাকায় এমন ঘটনার জন্য পুলিশের নিরাপত্তা দুর্বলতাকে দায়ি করেছেন সংস্কৃতি কর্মীরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। আর ঘটনার পর থেকে শহীদ দিবসের রীতি অনুযায়ী শব্দযন্ত্রের ঘোষণা ছাড়াই শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সামাজিক-সাংস্কৃতিক                 অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন- শহরের রেলগেট এলাকার রকি, সদর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের গাজী হাসান, শার্শা উপজেলার নহিহাটি রাশেদ নিয়াজি, বেনাপোলের কাগজপুর এলাকার সুমন হোসেন, খুলনার আড়ংঘাটার মিথুন সরকার, ঝিনাইদহের মহেশপুরের ডালভাঙ্গা গ্রামের এএম আকাশ, কচুয়ার পোতা গ্রামের জেডএ বিজয়, বাঘাডাঙ্গা গ্রামের তিতাস মিয়া, কোটচাঁদপুর উপজেলার মানিকদিহি গ্রামের শাহিন ও মাগুরার শালিখার নাঘোপা গ্রামের মহিদুল ইসলাম। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গান পাউডারসহ বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ১০ হাতবোমা ও ১৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। 
 
তবে আটকের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল জানিয়েছেন, শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর এমপি নাবিল আহমেদের সঙ্গে থাকা সন্ত্রাসী ম্যানসেলের নেতৃত্বে বোমা হামলা চালানো হয়। এরপর এমপির গাড়িচালক গুলিবর্ষণ শুরু করে। আর পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের আটক করছে।
 
এদিকে শহীদ মিনারে বোমাবাজি ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় পুলিশের দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দায়ী করেছে যশোর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। সকালে শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর শপথ গ্রহণ শেষে জোট সভাপতি ডিএম শাহিদুজ্জামান বলেন, ‘প্রশাসন শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা তীব্র ভাষায় এর নিন্দা জানাই।’
 
তবে পুলিশের এএসপি শাফিন মাহমুদ নিরাপত্তা ত্রুটির অভিযোগকে অস্বীকার করে ইত্তেফাককে বলেন, সেখানে তিনস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। শহীদ মিনারের ভেতরে কেউ বোমা ফেলেনি। বোমা পড়েছে কলেজ প্রাচীরের বাইরে। তবে শহীদ মিনার এলাকায় কেন গুলি করা হলো— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্যই পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। একইসঙ্গে তিনি জানান, হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ এমএম কলেজের আসাদ হল থেকে বহিরাগত ১০ জনকে আটক ও বোমা তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে।
 
এদিকে ঘটনার পরপরই পুলিশ জেলা তথ্য অফিসের মাইক বন্ধ করে ঘোষকদের সরিয়ে দেয় বলে ইত্তেফাককে জানিয়েছেন জেলা তথ্য অফিসের সাউন্ড অপারেটর মো. মোস্তফা। তিনি জানান, এসময় তিনি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পারভেজ হাসানকে ফোন করলে তিনি শহীদ মিনারে উপস্থিত এনডিসি নাজমুল হোসেন ও ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। ম্যাজিস্ট্রেটদ্বয় তাদের ওখান থেকে চলে যেতে বললে রাত একটার দিকে তারা মাইক খুলে মাথায় করে অফিসে ফেরত আসেন। তবে এনডিসি নাজমুল হোসেন দাবি করেন, অপারেটররা আতঙ্কিত হয়ে নিজেরাই চলে যায়। কেউ তাদের যেতে বলেনি।
 
মাগুরায় সংঘর্ষে ছাত্রলীগ ঃ প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, ফুল দেয়ার সময় এক পর্যায়ে শালিখা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি কুতুব উদ্দিন ও আরেক নেতা মোজাহার বিশ্বাসের সমর্থকদের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। পরে পুলিশ লাঠিপেটা করে ও রাবার বুলেট ছুড়ে তাদের সরিয়ে দেয়। এই ঘটনায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
 
শালিখা থানার ওসি জিহাদ বলেন, ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে কিছু যুবক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে তাদের লাঠিপেটা করে সরিয়ে দেয়া হয়। এখানে রাবার বুলেট ছোড়ার কোন ঘটনা ঘটেনি। ছাত্রলীগ সভাপতি কুতুব উদ্দিন বলেন, শহীদ মিনারে ফুল দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা আমাদের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা করে। পরে ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ ছোড়া রাবার বুলেটে কয়েকজন আহত হয়েছেন বললেও তাদের নাম পরিচয় জানাতে পারেনি তিনি।