৫ বছরে অস্ত্র রফতানি দ্বিগুণ করেছে চীন

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১৩:৫১
গত পাঁচ বছরে অস্ত্র রফতানির পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ করেছে চীন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বে তৃতীয় সর্ববৃহৎ অস্ত্র রফতানিকারকের যায়গা দখলে নিয়েছে দেশটি। অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীনের মনোযোগ এখন অত্যাধুনিক অস্ত্র নির্মাণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে।
 
গত পাঁচ বছরে চীনের অস্ত্র আমদানি কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ। আমদানি হ্রাস নিজেদের তৈরি অস্ত্রের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পাওয়ার দিকে ইঙ্গিত করে বলে মনে করছে, স্টকহোমভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট। সংস্থাটি এক রিপোর্টে জানিয়েছে, হালকা অস্ত্র বাদ দিলে গত পাঁচ বছরে তার আগের পাঁচ বছরের তুলনায় ৮৮ শতাংশ রফতানি বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে চীন।
 
এই সময়ের মধ্যে বিশ্বব্যাপী যতো অস্ত্র কেনাবেচা হয়েছে তার মধ্যে ৫ দশমিক ৯ শতাংশই ছিল চীনে তৈরি। সেই তুলনায় অবশ্য বিশ্বের শীর্ষ দুই অস্ত্র নির্মাতা যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া অনেক বেশি অস্ত্র রফতানি করেছে। অস্ত্র বাজারের ৫৮ শতাংশই ধরে রেখেছে এই দেশ দুটি। এর মধ্যে ৩১ শতাংশ অস্ত্র রফতানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ২৭ শতাংশ রাশিয়া।
 
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া যথাক্রমে ২৭ শতাংশ ও ২৮ শতাংশ অস্ত্র বিক্রি বৃদ্ধি করেছে। যেখানে ফ্রান্স ও জার্মানির অস্ত্র রফতানি কমেছে।
 
পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের একজন গবেষক জানিয়েছেন, গত ১০ বছর আগেও চীন মূলত নিম্ন প্রযুক্তির অস্ত্র রফতানি করত। তবে এটা এখন পরিবর্তন হয়েছে। তারা এখন যা তৈরি করছে তা আগের তুলনায় অনেক উন্নত যা বড় অস্ত্র ক্রেতাদেরকে আগ্রহী করে তুলছে।
 
দক্ষিণ চীন সাগর ও ভারত মহাসাগরে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে অস্ত্র নির্মাণে বহু বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে চীন। গত বছর দেশটির মোট সামরিক বাজেটি ছিল ১৪১ বিলিয়ন ডলার যা তার পূর্বের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি।
 
দক্ষিণ এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের দেশগুলো চীনা অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। চীনের রফতানি করা অস্ত্রের মধ্যে ৩৫ শতাংশেরই ক্রেতা পাকিস্তান। এর পরই রয়েছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। সূত্র: রয়টার্স