ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম দফায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ৭৫ চেয়ারম্যানপ্রার্থীসহ ৬০৯ জন প্রার্থী তাদের মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী সোমবার বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত উপজেলার সাতটি দফতরে প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন।
দিন শেষে ১৩টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদের বিপরীতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দলের মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ৭৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন জমা পড়ে। এছাড়া ১৩টি ইউনিয়নের ৩৯টি সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের বিপরীতে ১০৭টি এবং ১১৭টি সাধারণ ওয়ার্ড মেম্বার পদের বিপরীতে ৪২৭টি মনোনয়নপত্র জমা দেন প্রার্থীরা।
১৩ ইউনিয়নের ৭৫ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে সুলতানপুর ইউনিয়নে সাতজন, ধামতি ইউনিয়নে চারজন, ফতেহাবাদ ইউনিয়নে সাতজন, রাজামেহার ইউনিয়নে চারজন, ভানী ইউনিয়নে ছয়জন, সুবিল ইউনিয়নে সাতজন, রসুলপুর ইউনিয়নে ১০ জন, বরকামতা ইউনিয়নে তিনজন, মোহনপুর ইউনিয়ন ছয়জন, বড়শালঘর ইউনিয়নে দুইজন, ইউসুফপুর ইউনিয়নে সাতজন, এলাহাবাদ ইউনিয়নে চারজন ও জাফরগঞ্জ ইউনিয়নে আটজন রয়েছে।
১৩টি ইউনিয়নের সব কটিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১২টি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিলেও অজ্ঞাত কারণে বড়শালঘর ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেয়নি। এছাড়া ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে একমাত্র ফতেহাবাদ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে এক নারী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার মনোনয়নপত্র জমা দেন।
১৩ ইউনিয়নের ৭৫ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে সুলতানপুর ইউনিয়নে সাতজন হলেন-আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সফিকুল ইসলাম, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাকির হোসেন, জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী মমতাজ উদ্দিন মজুমদার, ন্যাপ (মোজাফ্ফর) প্রার্থী গোলাম সুলতান আহমেদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী আলমগীর আলম, জসিম উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম। ঐ ইউনিয়নে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে নয়জন ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ২৮জন প্রার্থী মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
ধামতি ইউনিয়নে চারজন হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ময়নাল হোসেন মনির, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন ভূইয়া, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী এ.কে.আজাদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক। ঐ ইউনিয়নে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ছয়জন ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ৩৬জন প্রার্থী মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
ফতেহাবাদ ইউনিয়নের সাত প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুস ছালাম, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাহিদ হাসান, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আলেক মিয়া, ন্যাপ (মোজাফ্ফর) খন্দকার গোলাম মোস্তফা, অন্যপ্রার্থীরা হলেন- মো. এরশাদ মিয়া, মোসা. পারুল আক্তার, মফিজুল ইসলাম, । ওই ইউনিয়নে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১১জন ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ৩৬জন প্রার্থী মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
রাজামেহার ইউনিয়নের ৪ প্রার্থী হলেন- আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী এড. জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনুিরুল ইসলাম তাজু, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম ভূইয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী নোয়াব আলী খান। ওই ইউনিয়নে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ছয়জন ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ৩১ জন প্রার্থী মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
ভানী ইউনিয়নের ছয় প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নূরুজ্জামান ভূইয়া মুকুল, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আক্তার হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান এম.এ হান্নান, সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ ও হানিফ খান। ওই ইউনিয়নে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে নয়জন ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ৩৪ জন প্রার্থী মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
সুবিল ইউনিয়নের সাত প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এম.এ রশিদ, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ হোসেন, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মহিউদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজমূল হাসান সরকার, গোলাম সারওয়ার মুকুল ভূইয়া, আবু তাহের সরকার, মাহবুব আলম। ওই ইউনিয়নে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে আটজন ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ৩৫ জন প্রার্থী মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
রসুলপুর ইউনিয়নের ১০ প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কামরুল হাসান, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহাবুব আলম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী পারভেজ আহমেদ ভূইয়া। অন্য প্রার্থীরা হলেন- জাকির হোসাইন, আব্দুল আউয়াল মুন্সি, ফিরোজ আহাম্মদ খান, সিরাজুল ইসলাম সরকার, শাহাজ উদ্দিন সরকার, শাহজাহান, সৈয়দ আলী। ঐ ইউনিয়নে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে আটজন ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ২৮ জন প্রার্থী মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
বরকামতা ইউনিয়নের তিন প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জয়নাল আবেদীন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী নূরুল ইসলাম। ঐ ইউনিয়নে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে নয়জন ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ৩৯ জন প্রার্থী মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
মোহনপুর ইউনিয়নের ছয় প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান তাজুল ইসলাম, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শহিদুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী এ.টি.এম সাইফুল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন- মিজানুর রহমান, আব্দুস ছাত্তার, তৈয়ব আলী।
ঐ ইউনিয়নে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৯জন ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ৩১ জন প্রার্থী মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
বড়শালঘর ইউনিয়নে মাত্র দুইজন প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম জারু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন ইউনুছ মিয়া। ঐ ইউনিয়নে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে নয়জন ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ২৪জন প্রার্থী মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
ইউসুফপুর ইউনিয়নের সাত প্রার্থী হলেন- আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী হলেন মোস্তফা কামাল চৌধুরী, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হলেন নাছির সরকার। অন্য প্রার্থীরা হলেন- জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী, দেলোয়ার হোসেন সরকার, আনোয়ারুল হক ও শাহআলম। ওই ইউনিয়নে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে আট জন ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ৩৪জন প্রার্থী মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
এলাহাবাদ ইউনিয়নের চার প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী মাসুদ হাসান, ইসলাম আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মাহবুব রহমান ফিরোজ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল জলিল। ঐ ইউনিয়নে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে নয়জন ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ৩৭জন প্রার্থী মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের আট প্রার্থী হলেন- আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী সোহরাব হোসেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান, জাতীয়পার্টি মনোনীত প্রার্থী রুহুল আমিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী এ.এস.এম.কে রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন জাকির হোসেন, আবুল হাসনাত্, আমির হোসেন। ওই ইউনিয়নে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৬জন ও সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য পদে ৩৪জন প্রার্থী মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
তফসিল অনুযায়ী প্রথম দফায় সারা দেশের ৭৫২টি ইউনিয়ন পরিষদের সাথে দেবিদ্বার উপজেলার ১৩ ইউনিয়নে মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারী এবং প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২ মার্চ প্রতীক বরাদ্দ ৩ মার্চ এবং ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে ভোট গ্রহণ।
