ভারত থেকে সরবরাহ বাড়ায় কয়েক মাস ধরে চলা জ্বালানির রেশনিং বন্ধ করেছে নেপাল। নেপালের নতুন সংবিধানের বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর আন্দোলন চলাকালে ভারত থেকে পণ্য সরবরাহের প্রধান সীমান্ত পথগুলো অবরোধ করেছিল আন্দোলনকারীরা। টানা অবরোধে অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি নেপালজুড়ে তীব্র জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হয়েছিল।
ওই অবরোধ তুলে নেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। নেপাল অয়েল কর্পোরেশনের কর্মকর্তা দীপক বড়াল বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, এখন ভারত থেকে স্বাভাবিক জ্বালানি সরবরাহের ৭০ শতাংশ পাচ্ছি আমরা। এই অবস্থায় জনসাধারণের জন্য জ্বালানি সরবরাহে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করার আর প্রয়োজন নেই।
প্রধানমন্ত্রী কে পি ওলির ভারত সফরের পর থেকে ত্রাণ সরবরাহও শুরু হয়েছে। সফরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ওলি। রাজতন্ত্র অবসানের পর সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো নতুন সংবিধান গ্রহণ করে নেপাল। সফরে সংবিধান নিয়ে ভারতের সঙ্গে সৃষ্ট দূরত্বও দূর করেন ওলি।
বেশ কয়েক বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চলার পর নতুন সংবিধানের মাধ্যমে স্থিতিশীলতার আশা করছিল নেপাল। কিন্তু সংবিধান নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলন শুরু করে দেশটির বিভিন্ন সংখ্যালঘু নৃগোষ্ঠী। দক্ষিণের তরাই অঞ্চলের মাধেশিরা ভারতের সঙ্গে প্রধান সীমান্ত পথগুলিতে অবরোধ বসায়। এতে স্থলবেষ্টিত দেশ নেপালে জ্বালানি তেল ও রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের তীব্র সঙ্কট তৈরি হয়।
ভাভারত নেপালে জ্বালানির একমাত্র সরবরাহকারী। তাই ভারত থেকে আসা জ্বালানি সরবরাহ সীমান্তে আটকা পড়ার পর জ্বালানির রেশনিং শুরু হয়। এতে পেট্রল পাম্পগুলোর সামনে গাড়ির লাইন কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয় এবং কালোবাজারির ব্যবসা রমরমা হয়। আন্দোলনের মুখে সরকার সংবিধান সংস্কারের রাজি হলে চলতি মাসে চার মাস ধরে চলা অবরোধ তুলে নেয় মাধেশিরা। সীমান্তে আটকা পড়া শত শত পণ্যবাহী ট্রাক ফের সচল হয়। রয়টার্স।
