শেকলে বেঁধে কিশোরকে নির্যাতন, কারখানা মালিক গ্রেফতার

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ২১:২০
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের এক জামদানি কারখানায় এক কিশোরকর্মীর পায়ে শেকল বেঁধে ১৫ দিন ধরে নির্যাতন চালানোর অভিযোগে মালিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আক্তার হোসেন দক্ষিণ রূপসী এলাকার সরাফত আলীর ছেলে।
 
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গুন্দিমারী এলাকার মোতালিব মুন্সীর ছেলে আনছারুল ইসলাম (১৪) তার কারখানার কারিগর। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ রূপসী এলাকার ওই কারখানায় অভিযান চালিয়ে আক্তারকে গ্রেফতার ও আনছারুলকে উদ্ধার করা হয় বলে রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবিএম মেহেদী হাসান জানিয়েছেন।
 
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে কারখানার মালিক আক্তার হোসেন নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সাইদুজ্জামান শরীফের আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. মোখলেছুর রহমান।
 
তিনি বলেন, কয়েকমাস ধরে আক্তার ঠিকমতো বেতন না দেয়ায় আনছারুল কাজ ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি তা জানতে পেরে আক্তার উল্টো আনছারুলের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। আনছারুল তা দিতে পারবে না জানালে তাকে পায়ে শিকল বেঁধে আটকে রাখে। গত ১৫ দিন ধরে আনছারুলের পায়ে শিকলে বেঁধে জামদানি বুননের কাজ করাচ্ছিলেন আক্তার। কাজ করতে না চাইলে চলত নির্যাতন। এ ঘটনায় আনছারুলের ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান।
 
জামদানি কারিগর আনছারুল ইসলাম বলেন, ‘বাড়ি যাওয়ার জন্য কয়েকমাসের পাওনা বেতনের টাকা চাওয়ায় আমাকে পায়ে শিকল বেঁধে আটকে রেখে নির্যাতন করেছে। উল্টো আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। ওই ৫০ হাজার টাকা না দিলে কারখানার মালিক তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন।’
 
জামদানি কারিগর আনছারুল ইসলামের বড় ভাই আনোয়ার হোসেন বলেন, গত শুক্রবার আমার ছোট ভাইকে দেখতে গেলে তারা আমাকে ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তাকে ছাড়িয়ে নিতে হলে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে; অন্যথায় তাকে অন্যত্র বিক্রি করে দেয়ার হুমকি দেন আক্তার হোসেন।