বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে রোহিত শর্মার সেই নো বলে আউট না দেয়ার জের ধরে বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেটীয় দ্বৈরথে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ক্রিকেটীয় সামর্থ্যের পাশাপাশি সমর্থকদের বৈরিতার উপর ভর করে এখন যোগ হয়েছে দুই দেশের গণমাধ্যমগুলো ও বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোর লড়াই।
বুধবার এশিয়া কাপ টি টোয়েন্টির বাংলাদেশ ভারতের ম্যাচের আগে একবার চোখ বোলানো যাক দুই দেশের জনপ্রিয় কিছু ক্রিকেটীয় গণমাধ্যম যুদ্ধে।
‘মওকা মওকা’ বনাম ‘মওকা মওকা’: ভারত-পাকিস্তান বৈরিতা ক্রিকেটের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর বিষয়গুলোর অন্যতম। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে পাকিস্তান কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে এখনো ভারতকে হারাতে পারেনি। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই ২০১৫ অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপের ভারতের প্রতিটি ম্যাচের আগে পাকিস্তানের এক প্রতীকী সমর্থকের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে মজা করে ‘মওকা মওকা’ বিজ্ঞাপন তৈরি করে ভারতীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান। কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের আগেও তৈরি করেছিল। তবে সেটি প্রচার হওয়ার আগেই এক ভারতীয় সমর্থকের তৈরি করা ‘মওকা মওকা’ ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়। সমর্থকের ভিডিওতে দেখানো হয় বাংলাদেশ রাষ্ট্র ভারতের সৃষ্টি। আর এই ভিডিওর জেরে সামাজিক গণমাধ্যমে তুমুল সমালোচনা তৈরি হয়। সমর্থকেরা একের পর এক পাল্টা ‘মওকা মওকা’ ভিডিও তৈরি করে প্রচার করে। বিশ^কাপের পরবর্তী সময়ে এর প্রভাব বিদ্যমান ছিল। ভারত বাংলাদেশে সিরিজ খেলতে আসার সময়ে ‘মওকা মওকা’ গেয়ে ভারতীয় খেলোয়াড়দের ব্যঙ্গ করে গেছে বাংলাদেশি সমর্থকরা।
‘বাচ্চে বাচ্চে নেহি রাহে’ বনাম ‘ব্যাম্বু ইজ অন’: বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর উজ্জীবিত বাংলাদেশ এপ্রিলে পাকিস্তানকে ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশ করে। অথচ এর আগে পাকিস্তানের সঙ্গে একমাত্র জয় ছিল সেই ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে। এরপর ভারত আসার কথা বাংলাদেশে। ক্রিকেটে বাংলাদেশের উন্নতিকে নিয়ে মজা করে একটি বিজ্ঞাপন নির্মাণ করে ‘মওকা মওকা’ বিজ্ঞাপন তৈরি করা সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ-ভারত হোম সিরিজের প্রমোশনাল সেই ভিডিওতে দেখা যায় একটি বাচ্চা যে আগে কোনো খেলা পারতো না সে এখন তার থেকে অনেক ‘বড়’ ছেলেদের বলে ছক্কা হাঁকাচ্ছে। অতীতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ও বর্তমানের উন্নতির দিকে ইঙ্গিত করে বিজ্ঞাপনটির ট্যাগলাইন ছিল ‘বাচ্চা বাচ্চা নেহি রাহে’ বা বাচ্চা বড় হয়ে গেছে।
আর বাংলাদেশের একটি কোমল পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এই সিরিজের একটি বিজ্ঞাপন তৈরি করে। বিজ্ঞাপনে একটি পার্কে হ্যারিকেন হাতে বসা এক পাকিস্তানিকে এক ভারতীয় বাঙ্গালি বাংলাদেশে হোয়াইটওয়াশ হওয়া নিয়ে মজা করে। জবাবে সেই পাকিস্তানি একটি বড় বাঁশ ভারতীয়র ধরিয়ে দিয়ে বলে, বাংলাদেশ যাচ্ছেতো তোমরাও! তোমরাও একই জিনিস পাবা। সেই বিজ্ঞাপনের কথাই অনেকটা সত্য হয়। পাকিস্তানের মতো হোয়াইটওয়াশ করতে না পারলেও মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিং দাপটে প্রথম দুই ম্যাচ দাপটের সঙ্গে জেতে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সেই সিরিজ ২-১ এ জিতে নেয় টাইগাররা।
IMG0
‘কাটার মুস্তাফিজ’
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ হারের পর বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় বাংলা দৈনিক মুস্তাফিজের কাটার নিয়ে তাদের ফান ম্যাগাজিনে একটি কার্টুন প্রকাশ করে। কার্টুনে দেখানো হয় বাংলাদেশি মুস্তাফিজুরের কাটারে ভারতীয় ক্রিকেটারদের চুলের এক সাইড কাটা পড়েছে। বাংলা ভাষায় প্রকাশিত পত্রিকায় আসলেও এই কার্টুনটি বেশ আলোড়ন তুলেছিল বিশ্ব গণমাধ্যমে। অনেকে এই কাটুর্নটি বাজে রুচির পরিচায়ক বলে অভিহিত করলেও বাংলাদেশি সমর্থকরা এই কার্টুন বেশ উপভোগ করেছেন।
