বায়ার্নের সঙ্গে জুভেন্টাসের নাটকীয় ড্র

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১১:৪২
বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে পিছিয়ে যেতে বসেছিল জুভেন্টাস। তবে শেষ ৩০ মিনিটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ফিরতি পর্বে সমানে সমানে লড়াইয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে ইতালির ক্লাবটি।
 
মঙ্গলবার রাতে বায়ার্ন ও জুভেন্টাসের মধ্যে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলো পর্বের প্রথম লেগের ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে। অধিকাংশ সময় ভালো খেলেও জিততে না পারার হতাশা থাকলেও প্রতিপক্ষের মাঠে মূল্যবান দুটি গোল করায় কিছুটা হলেও এগিয়ে আছে জার্মানির ক্লাব বায়ার্ন। 
 
নিয়মিত একাদশের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় চোটের কারণে বাইরে থাকায় কোনো সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ছাড়াই এ ম্যাচে খেলতে নামে বায়ার্ন। তবে আক্রমণভাগের দাপুটে পারফরম্যান্সে প্রথমার্ধে ফিলিপ লাম-দাভিদ আলাবাদের নিয়ে তেমন কোনো পরীক্ষাই দিতে হয়নি। একের পর এক আক্রমণ করতে থাকা বায়ার্ন অবশেষে বিরতির খানিক আগে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়। ডান দিক থেকে আরিয়েন রবেনের উঁচু করে বাড়ানো বল বাঁ দিকের গোললাইনের কাছ থেকে আট গজ বক্সে পাঠান ডগলাস কস্তা। আর তা ফাঁকায় পেয়ে অনায়াসে জালে জড়ান মুলার। সব ধরণের প্রতিযোগিতা মিলে ৯ ম্যাচ পর গোল হজম করে জুভেন্টাস।
 
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেও একইভাবে স্বাগতিক রক্ষণে চাপ ধরে রাখে বায়ার্ন। ৫৫তম মিনিটে আরিয়েন রোবেনের দারুণ নৈপুণ্যে ব্যবধান দ্বিগুণ করে তারা। রবার্ট লেভানদোভস্কির পাস বক্সের মধ্যে পেয়ে দুজন ডিফেন্ডারের বাধা এড়িয়ে কোনাকুনি শটে গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফনকে পরাস্ত করেন নেদারল্যান্ডসের এই ফরোয়ার্ড। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলে ৬৩তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ব্যবধান কমান পাওলো দিয়াবালা। বক্সের বাইরে থেকে মানজুকিচের বাড়ানো বল ধরে খানিকটা এগিয়ে বাঁ পায়ের শটে দলকে ম্যাচে ফেরান দারুণ ফর্মে থাকা এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।
 
IMG0
 
এ মৌসুমেই পালেরমো থেকে জুভেন্টাসে যোগ দেওয়া ২২ বছর বয়সী দিয়াবালার এটি প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ গোল। প্রায় পুরোটা সময় প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলাতে ব্যস্ত থাকা জুভেন্টাস হঠাৎ গোলের দেখা পেয়ে যেন আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়। দুই মিনিটের ব্যবধানে হুয়ান কুয়াদরাদো ও পল পগবা দুটি সুযোগ নষ্ট না করলে এ সময় ম্যাচের চেহারা ভিন্ন হতে পারতো। ঘুরে দাঁড়ানো জুভেন্টাসকে অবশ্য বেশিক্ষণ আটকে রাখতে পারেনি বায়ার্নের দুর্বল রক্ষণ। দুই বদলি খেলোয়াড়ের নৈপুণ্যে ৭৫তম মিনিটে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। এক মিনিট আগেই মাঠে নামা স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড আলভারো মোরাতার হেড ছোট বক্সে পেয়ে লক্ষ্যভেদ করেন ইতালির মিডফিল্ডার স্তেফানো স্তুরারো। শেষ দিকে জয়সূচক গোল পেয়ে যেতে পারতো অতিথিরা। কিন্তু পোল্যান্ডের ফরোয়ার্ড লেভানদোভস্কি ছোট বক্সের মধ্যে সুযোগটা কাজে লাগাতে না পারায় সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি। গোল.কম।