দূর থেকে ভেসে আসা রণগর্জনের মতো একটা শব্দ থেমে থেমে আসছে।
স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর কয়েক কিলোমিটার আগে থেকেই আওয়াজটা টের পাওয়া যাচ্ছিলো। মিরপুর দশ নম্বর গোলচত্বরে আসতেই দেখা গেলো এই আওয়াজের উৎস—আক্ষরিক অর্থে হাজার হাজার মানুষ। স্টেডিয়ামে তিল ধারণের আর স্থান নেই। বাইরে আরও কয়েক স্টেডিয়াম মানুষ রীতিমতো প্লাবনের মতো, রণহুঙ্কারের মতো শব্দের জোয়ার তৈরি করেছেন।
এই দৃশ্য অবশ্য মিরপুরের অচেনা নয়। মাঝে মাঝেই মিরপুর কেঁপে ওঠে ক্রিকেটের এই জনজোয়ারে। এমনকি কানায় কানায় ভর্তি প্রেসবক্সও মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের জন্য নতুন নয়। একেবারে নতুন ব্যাপার ছিলো সবুজ উইকেট। হ্যাঁ, চোখ ছানাবড়া করে দেয়ার মতো ঘাস রেখে একেবারে গ্যাবা কিংবা ওয়াকার মতো বানিয়ে ফেলা হলো গতকাল মিরপুরের উইকেট।
মিরপুর স্টেডিয়ামে তো বটেই, বাংলাদেশে যতগুলো ক্রিকেট মাঠ আছে, তার কোনোটাতে কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উইকেটে এতো ঘাস এর আগে নিশ্চয়ই দেখা যায়নি। হর্ষ ভোগলের মতো পোড় খাওয়া ধারাভাষ্যকার টুইটারে পোস্ট করেছেন—মিরপুরে এতো সবুজ এর আগে দেখা যায়নি; বিস্ময়কর!
আর সবুজ এই উইকেটে স্বপ্নটা যেমন হতে পারে, তাই ঘটলো—টসে জিতে বোলিং নিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। সেই সাথে শিকারের উদ্দেশ্যে নিজে সহ ঝাঁপিয়ে পড়লেন চার জন নিখাদ ফাস্ট বোলার নিয়ে!
এই চার পেসার দিয়েই সর্বশেষ সিরিজে ভারতকে একেবারে নাচিয়ে ছেড়েছে বাংলাদেশ। তবে সেটা ছিলো ওয়ানডে সিরিজ। ক্রিকেট যতোই মরে যাক, টেস্ট পার করে ওয়ানডেতে এখনও তিন-চার পেসার চলে। বাংলাদেশের চোখে অনভ্যস্ত মনে হলেও ওয়ানডেতে তাই চার ফাস্ট বোলার বিস্ময়ের ছিলো না। তাই বলে টি-টোয়েন্টিতেও!
ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম এই সংস্করণে চার পেসার নিয়ে কোন দল কয়টি ম্যাচ খেলেছে, তাও হয়তো গুনে বের করা সম্ভব। সে গোনাগুনিতে না গিয়ে একটা তথ্য নিশ্চিত করে জানানো যায়, বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টিতে এই প্রথম চার বোলার খেলাচ্ছে এই ফরম্যাটে।
অবশ্য কাগজ-কলমকে বিশ্বাস করলে একটু দ্বিধা তৈরি হতে পারে। পরিসংখ্যান আপনাকে জানাবে যে, বাংলাদেশ তাদের ইতিহাসের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নেমেছিলো চার জন ‘পেসার’ নিয়ে; এমনকি পরের দুটো ম্যাচে পাঁচ জন ‘পেসার’ও ছিলো। তবে এই চার-পাঁচ জনের মধ্যে ছিলেন নাজিমউদ্দিন, আফতাব আহমেদের মতো পার্ট টাইমার; যারা ম্যাচগুলোতে বলই করেননি। আবার সৈয়দ রাসেল ও ফরহাদ রেজার মতো স্লো-মিডিয়াম পেসারও ছিলেন এই দলে। ফলে জেনুইন পেস বোলার বলতে যা বোঝায়, তার তিন জনও এর আগে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ এক সাথে মাঠে নামায়নি।
IMG0
সেখানে গতকাল চার পেসারের দু’ জনকে রীতিমতো ‘স্পিডস্টার’ বলা চলে। আল আমিন হোসেন ও তাসকিন আহমেদ তো সবুজের ছোঁয়া লাগা উইকেট পেয়ে ১৪২ কিলোমিটারের নিচে নামাতেই চাইলেন না বলের গতি। মুস্তাফিজও ১৪০-এর আশপাশে এবং মাশরাফি ১৩৫ ছাড়ালেন কয়েক বার।
কিছু কী টের পাচ্ছেন?
হ্যাঁ, নতুনের গান। পুরোনো এশিয়া কাপ, পুরোনো সেই জনস্রোত; নতুন ফরম্যাট, নতুন উইকেট এবং নতুন বাংলাদেশ।
