আগের দিনের জনসমুদ্র মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়াম গতকাল বিরান হয়ে পড়লো। আরব আমিরাত বনাম শ্রীলঙ্কা ম্যাচে গতকাল গ্যালারিতে হাতে গোনা কয়েক জন দর্শক।
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের খেলোয়াড়রা নিশ্চিত থাকতে পারেন, আজ শুক্রবার আবার জনস্রোত দেখা যাবে। আজ যে আমিরাতের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক বাংলাদেশ।
হ্যা, টুর্নামেন্টে টিকে থাকা নিশ্চিত করতে বাছাইপর্ব পার হয়ে আসা আমিরাতের বিপক্ষে আজ মাঠে নামবে মাশরাফির দল।
যথারীতি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দু দল।
আরব আমিরাত এই নিয়ে তৃতীয় বারের মতো এশিয়া কাপ খেলছে। এবার তাদের মূল টূর্নামেন্টে আসাটা ছিলো মোটামুটি বিষ্ময়কর একটা ব্যাপার। ফেবারিট আফগানিস্তানকে প্রথম ম্যাচেই হারিয়ে বাছাইপর্বের চ্যাম্পিয়ন হয়ে এখানে এসেছে তারা। তারপরও টেস্ট খেলুড়ে দল বাংলাদেশের জন্য খুব বড় চ্যালেঞ্জ হওয়ার কথা নয় প্রায় অপেশাদার এই দলটির।
তবে বাংলাদেশ দল যথেষ্ঠ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে আরব আমিরাতকে। যেহেতু আফগানদের হারিয়ে নিজেদের প্রমাণ করে এখানে এসেছে তারা, তাই আমিরাতকে ছোট করে দেখার সুযোগও নেই। অবশ্য বাংলাদেশের মূলত তাদের গুরুত্ব দেওয়ার কারণ, টূর্নামেন্টে নিজেদের টিকে থাকা।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের কারণেই এই টূর্নামেন্টে বাংলাদেশকে ফাইনালিস্ট হিসেবে কল্পনা করা একটু কঠিন। ওয়ানডেতে পরাশক্তি হয়ে উঠলেও এই ফরম্যাটে এখনও হাটতে শেখা দল বাংলাদেশ। তারওপর প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে হেরে বেশ একটা ধাক্কা হজম করতে হয়েছে।
তবে বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি আশাবাদী যে, বাকী তিনটি ম্যাচে ভালো পারফরম করে তারা ফাইনালের লড়াইয়ে নিজেদের ধরে রাখতে পারবেন। আর সে জন্য খুব জরুরী আজকের অবশ্যকর্তব্য জয়টা ঝুলিতে পুরে নেওয়া। সে ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়াইয়ের আগে কিছু সম্বল অন্তত হাতে থাকবে।
লড়ে হারলো আরব আমিরাত
কাগজে কলমে লেখা রইলো, এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৪ রানে হেরেছে সংযুক্ত আাারব আমিরাত পরাজিত হয়েছে। কিন্তু এই পরাজয়ের আগে কী প্রবল লড়াই করেছে তারা, শ্রীলঙ্কাকে কী বিপাকে ফেলেছিলো, তা লেখা থাকবে না।
হ্যা, গতকাল এশিয়া কাপে এবারের আসরের দ্বিতীয় ম্যাচে সহযোগি দেশ আরব আমিরাতের বিপক্ষে জিততে একরকম সর্বোচ্চ পরিশ্রম করতে হয়েছে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কাকে। আগে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা কখনোই স্বস্তিতে থাকতে পারেনি। দিনেশ চান্দিমালের ফিফটির পরও তারা ২০৯ ওভারে ১২৯ রান তুলতে ৮ উইকেট হারিয়েছে। আমজাদ জাভেদ ৩টি এবং নাভিদ ও শাহজাদ ২টি করে উইকেট নেন।
জবাব দিতে নেমে লাসিথ মালিঙ্গার করা প্রথম ওভারেই ২ উইকেটসহ ১৪ রানে ৩ উইকেট হারায় আরব আমিরাত। তারপরও ৬ নম্বরে নামা স্বপ্নীল পাতিলের ৩৭ রানে ভর করে দারুন লড়াই করেছিলো দলটি। শেষ ওভারে দরকার ছিলো ২৯ রান। দুটো বীমার দিয়ে বোলিং থেকে নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়া চামিরার ওভারে একটা সাহস পাচ্ছিলো আমিরাত। শেষ অবদি স্বপ্নটা অনেক দূরে থেকে যায়। আরব আমিরাত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১১৫ রানে আটকে যায়।
