বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের দ্বিধাবিভক্ত দুইটি অংশ নিউইয়র্কে সাংবাদিক সম্মেলন করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। শুক্রবার নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস ও জ্যামাইকায় অনুষ্ঠিত পৃথক সাংবাদিক সম্মেলনে তারা অভিন্ন অভিযোগ করেন। সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধে নেতারা কিছু প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।
জ্যাকসন হাইটসে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের একাংশের এক সাংবাদিক সম্মেলনে নেতারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও আধিবাসীদের অস্তিত্ব আজ সঙ্কাপন্ন। সংখ্যাঘলুদের ওপর অব্যাহত নির্যাতন-নিপীড়ন এবং এসব প্রশমনের ব্যাপারে সরকার আন্তরিক নয়।
সংখ্যালঘুদের এসব সমস্যা সমাধানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধে মাইনোরিটি ও হেট ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল গঠন করে স্বাধীনতা উত্তর সব সাম্প্রদায়িক ঘটনার বিচার করার দাবি জানায়। এ রকম আরো সাতটি দাবি সরকারের কাছে উত্থাপন করেন বক্তারা।
সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন দ্বিজেন ভট্টাচার্য, ড. জিতেন রায়, প্রদীপ মালাকার, প্রদীপ দাস, ডা. টমাস দুলু রায়, বিদ্যুৎ দাস, রনবীর বড়ুয়া প্রমুখ।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরো যে সাতটি দাবি তুলে ধরা হয়, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, সংখ্যালঘুদের সার্বিক উন্নয়ন ও অধিকার সংরক্ষণে মাইনোরিটি মন্ত্রণালয় গঠন, সংখ্যালঘুদের কল্যাণে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মত হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ফাউন্ডেশন গঠন করে দেবোত্তর সম্পত্তি ফেরত এবং তা রক্ষণাবেক্ষণে ফাউন্ডেশনকে দায়িত্ব প্রদান, সারা দেশে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসলামের ইতিহাসের পাশাপাশি হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ইতিহাস ও সভ্যতা পাঠসূচিতে অন্তর্ভূক্তকরণ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, পার্বত্য শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন, আদিবাসী এলাকা থেকে বাঙালিদের প্রত্যাহার করে তাদের ন্যায্য জমি বুঝিয়ে দেয়া. অবিলম্বের সব সাম্প্রদায়িক হামলা ও জবরদখল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা গ্রহণ এবং দেশে জঙ্গি তৎপরতা রোধে টেররিজম টাস্কফোর্স গঠন, পাঠাপুস্তক থেকে অমুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষমূলক বিষয় বাতিল ও বাধ্যতামূলক ডাইভার্সিটি বিষয়ক শিক্ষা পাঠসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করার দাবি জানানো হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিগত ও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের একটি চিত্র তুলে ধরা হয়।
এদিকে জ্যামাইকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আরেক অংশের সাংবাদিক সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন একটি দৈনন্দিন ঘটনা। বিদায়ী বছরে এমন একটি দিনও হয়ত পাওয়া যাবে না, যেদিন দেশের কোথাও না কোথাও হিন্দু মন্দির বা মূর্তি ভাংচুর, হিন্দুর জমি দখল, নাবালিকা ধর্ষণ ও ধর্মান্তরিতকরণ বা দেশত্যাগের হুমকি ইত্যাদি খবর প্রকাশিত হয়নি।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক স্বপন দাস। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট নবেন্দু দত্ত, নয়ন বড়ুয়া ও রেভারেন্ড জেমস রায়।
সাংবাদিক সম্মেলনে সংখ্যালঘুদের অধিকার আদায় ও রক্ষায় বেশকিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, ধর্মীয় নৃগোষ্ঠির স্বার্থ রক্ষার জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন এবং মন্ত্রী পরিষদ ও সংসদে ১৫শতাংশ সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক উচ্চপদে আনুপাতিক হারে ধর্মীয় নৃগোষ্ঠির নিয়োগ দান, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা প্রদান, পুলিশ ও প্রশাসনের সব স্তরে নিষ্ক্রিয়তার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণ ও সাজার ব্যবস্থা গ্রহণ, সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্তি, সংখ্যালঘু নির্যাতন প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন চাই এবং তাৎক্ষণিক ন্যূনতম ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ও পূর্নবাসনের ব্যবস্থা করা, পুলিশ বাহিনী, সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড ও গ্রামরক্ষী বাহিনীতে ১৫শতাংশ সংখ্যালঘু নিয়োগ দান, সব সন্ত্রাসীদের অর্থের উৎস ব্যাংক, বীমা, হাসপাতাল, শিক্ষালয় ও প্রতিষ্ঠানসমূহ সরকারের বাজেয়াপ্ত করা, উৎসব পালনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাহাবুদ্দীন রিপোর্ট বাস্তবায়ন।
