যৌনতা নিয়ে সংস্কার ঝেড়ে ফেলছে চীনারা

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১৮:৪৮
গত ২০ বছরে চীনাদের মানসিকতায় এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। পূর্বে বিয়ের আগে দৈহিক মিলনে নারী-পুরুষ রাজি না হলেও এখন সেই চিত্রে অনেক পরিবর্তন এসেছ বলে  দাবি করেছেন দেশটির প্রথম নারী সেক্সোলজিস্ট লি ইয়েনি।
 
১৯৮৯ সালে করা তার এক গবেষণা মতে মাত্র ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ বিয়ের আগে যৌনমিলনে আগ্রহী ছিলেন। আর ২০১৪ সালের গবেষণায় ৭১ শতাংশ মানুষ বিয়ের আগে যৌনমিলনের কথা স্বীকার করছে বলে জানান তিনি।
 
আর এই ব্যাপারটিকে বিপ্লব বলে আখ্যায়িত করলেন তিনি। ১৯৯৭ সালে বিয়ের আগে এমন মিলন ছিল অবৈধ এবং একে পাপ বলে গণ্য করা হত।
দেশটিতে একই অবস্থা পর্নোগ্রাফি ও পতিতালয়গুলোর। ১৯৯৬ সালে এক পতিততালয়ের মালিককে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। গত বছরের এক বক্ততায় লি ইউয়েন বলেন, এখনও পতিতাবৃত্তির চর্চা করা হলেও মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকায় অচিরেই এই ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।
 
 
১৯৮০ সালে পর্নোগ্রাফির প্রকাশকদেরও মৃত্যুদণ্ড দেয়ার বিধান ছিল। এছাড়া বাড়িতে সেক্স পার্টি আয়োজন করলেও এই শাস্তি দেয়া সম্ভব ছিল। তবে এখন পর্নোগ্রাফি কিংবা এমন অনুষ্ঠানের শাস্তি এতটা ভয়াবহ নয়। যদিও এখনও এটি অবৈধ।
 
লি বলেন, এখন আসলে কেউ অভিযোগ করে না, তাই বিচারও হয়না। ১৯৮০ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পড়াশোনা শেষ করে এসে চীনকে গোঁড়ামির মধ্যে আবিস্কার করেন সেসময়ের তরুণ সমাজবিজ্ঞানী লি।
 
লি বলেন, ১৯৮০ সালের আগে সেক্স নিয়ে কিছু লেখাও দণ্ডনীয় ছিল। সেই প্রথা ভেঙে ১৯৯৮ না হোমোসেক্সুয়ালিটি নিয়ে একটি বই প্রকাশ করেন লি। বইটির নাম ছিল ‘দ্য সাবকালচার অফ হোমোসেক্সুয়ালিটি’। সেসময়ই ‘দ্য সাবকালচার অফ স্যাডোমাসোচিজম’ নামে আরেকটি বই প্রকাশ করেন তিনি।লি বলেন, সেসময় বইটির ৬০ হাজার কপি বিক্রি হয়।
 
চীনা প্রকাশকরা বইটি প্রকাশে অস্বীকৃতি জানালে তিনি হংকং থেকে প্রকাশ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কমিউনিস্ট রাষ্ট্রটি সেক্সকে একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার মনে করতো কিন্তু লি এই বিষয়টি নিয়ে পড়াশোনা করা প্রয়োজন বলেই মনে করতেন।
 
‘সেক্স ইন চায়না’ বইয়ের লেখক ড. হাইকিং ইউ বলেন, সেসময় লি নিজেকে প্রগতিশীল একজন একাডেমিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এজন্য তাকে সহকর্মী থেকে শুরু সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সবার কাছেই হয়রানির শিকার হতে হয়।
 
লি বলেন, চীনা নাগরিকদের মনোভাবের পেছনে আসলে দেশটি এক সন্তান নীতিই কাজ করেছে। তিনি বলেন, এক সন্তান নেয়ার নীতিতে আসলে যৌনমিলনের উদ্দেশ্য পরিবর্তন হয়ে পড়ে। সন্তান জন্মদান ছাড়াও সেক্স ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে।
 
তিয়াজিনে হাজারো শিক্ষার্থীর সামনে এক বক্তৃতায় তিনি সবার মাঝেই সেই আকাঙ্খা দেখতে পেয়েছিলেন বলে দাবি করেন লি।
 
এরপর অভিযোগ আসতে থাকে লি বোধহয় একজন সমকামী। এই অভিযোগের জবাবে ২০১৪ সালে নিজের সঙ্গীর সাথে একটি ছবি প্রকাশ করেন তিনি।
দেশটিতে সমকামীদের অধিকার নিয়েও কাজ করেছেন এই সমাজবিজ্ঞানী। দেশটির সংসদে সমলিঙ্গে বিয়ের আইন পাশ করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তার বিশ্বাস একদিন এটাও সম্ভব হবে।