কোন্দলে প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপির হিমশিম

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ২৩:৪৬
আসন্ন দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার বাকি মাত্র তিনদিন। অথচ এখনো প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে পারেনি বিএনপি। গতকাল পর্যন্ত ৬৭২টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে মাত্র অর্ধেক প্রার্থীর তালিকা হাতে পেয়েছে দলের গুলশান অফিস। এ নিয়ে একদিকে সংশয় অন্য দিকে হিমশিম অবস্থা দলে। এই ধীরগতির কারণ হিসাবে সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়ার আশঙ্কা,সরকারি দলের হামলা-হুমকি, মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারার অনিশ্চয়তা এবং সেই সঙ্গে দলের নেতায় নেতায় কোন্দল-তদবিরকে দায়ী করছেন দয়িত্বশীল নেতারা। ইউপি নির্বাচন কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দলে প্রার্থীরা চাঙ্গা হলেও বিএনপি নেতাকর্মীদের মনে ভয়-দুর্ভাবনা। এই ভয় থেকেই দেখা দিয়েছে প্রার্থী সংকট। অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদেরই একাধিক যোগ্য, জনপ্রিয় প্রার্থী রয়েছেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে তারা প্রার্থী হতে চাচ্ছেন না। কেন্দ্রে নেতৃত্বে সংকটজনক অবস্থা, জেলা-উপজেলায় বিরাজমান কোন্দল, তা নিরসনে কেন্দ্রের যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতা তাদের হতাশ করেছে।
 
এদিকে এলাকার নেতাদের মনোনয়ন বাণিজ্য ঠেকাতে বিএনপি অতি সতর্কতাও মনোনয়ন চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে বিলম্ব ঘটাচ্ছে। ইতোমধ্যে যাদের মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়েছে তাদের মধ্যে দূর-দূরান্তের জেলাগুলোর প্রার্থীদের প্রত্যয়নপত্র প্রদান শুরু করেছে বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ধানের শীষের প্রার্থীদের প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।
 
প্রথম ধাপের চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জেলার প্রভাবশালী নেতা এবং সাবেক এমপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ আসার পর তাদের বাদ দিয়ে দ্বিতীয় ধাপের প্রার্থী মনোনয়নে উপজেলা বিএনপির সভাপতি-সেক্রেটারি এবং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি-সেক্রেটারি-সাংগঠনিক সম্পাদক এই ৫ জনের সুপারিশই গ্রহণ করছে দলটি। ফলে যেসব উপজেলার সাথে ইউনিয়নের বিরোধ আছে তারা বিভক্ত হয়ে একাধিক প্রার্থীর পক্ষে সুপারিশ পাঠাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে জেলার প্রভাবশালী নেতারা প্রচ্ছন্নভাবে নেপথ্যে থেকে কলকাঠি নাড়ছেন বলে অভিযোগ পাচ্ছে বিএনপির কেন্দ্র। দলের প্রার্থী মনোনয়নে অন্যতম সমন্বয়ক সহ-প্রচার সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বললেন, এ পর্যন্ত ফিফটি পার্সেন্ট প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়েছে। পয়লা মার্চের আগেই প্রত্যয়নপত্র বিতরণ শেষ হয়ে যাবে। বিতর্ক এড়াতে আমরা এবার খুব সতর্ক। সুপারিশের কাগজ পেয়েই আমরা প্রত্যয়ন দিচ্ছি না। উপজেলা এবং ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলছি। তারা সত্যি সত্যিই স্বেচ্ছায় সুপারিশে সই করেছেন কি না তা নিশ্চিত হচ্ছি।
 
প্রার্থী মনোনয়নের সমন্বয়ক দলের যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, আমরা স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং বিতর্ক এড়াতে এবার কিছু ব্যবস্থা নিয়েছি। তৃণমূল যেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসাবে দলের জনপ্রিয় এবং প্রকৃত ব্যক্তিকে পান সেই জন্য চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ায় বাধার পর এখন প্রার্থিতা প্রত্যাহারে চাপ দেয়া হচ্ছে।
 
এদিকে বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, অনেক জনপ্রিয় প্রার্থী সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না এমন আশঙ্কায় এবং মামলা-হামলার ভয়ে ইউপি নির্বাচনে দাঁড়াতে রাজি হচ্ছেন না। কেন্দ্রে যাদের নামের তালিকা আসছে তারা অনেকে এবারই প্রথম নির্বাচন করতে চাচ্ছেন।
 
দলের নেতাদের কেউ কেউ দলের ইউপি নির্বাচন সমন্বয় এবং মনিটরিংয়ের দায়িত্বে নিয়োজিতদের প্রতি বেশ ক্ষুব্ধ। তারা বলছেন, বিএনপির সমস্যা হলো প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে কালক্ষেপণ করছে। যেহেতু প্রতিকূল সময়ের ভেতর দিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হচ্ছে, সহিংস বাধা, হামলা মনোনয়নপত্র ছিনতাই হচ্ছে।
 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, আগামী ২২ মার্চের নির্বাচনের জন্য আমাদের যারা প্রত্যয়নপত্র পেয়েছেন তাদের অনেককে বাধা দিয়ে– হামলা করে মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেয়া হয়নি, এখন চাপ দিয়ে ভয় দেখিয়ে তুচ্ছ কারণ বের করে প্রার্থিতা ছিনিয়ে নেয়া হচ্ছে। আর নির্বাচন যে সুষ্ঠু হবে না তা এখনই বোঝা যাচ্ছে। ফলে এর প্রভাবে দ্বিতীয় ধাপের প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।