রাজশাহী মহানগরীর নতুন বিলসিমলার ফুয়াদ হোসেন দু’বছর আগে নতুন বাড়ি করেছেন। বাড়ির নির্মাণ কাজের শুরুতেই ২০১৩ সালের ২৬ নভেম্বর তিনি গ্যাস সংযোগের জন্য আবেদন করেন। তার সিরিয়াল নম্বর ১৪৫৭২। কিন্তু তিনি আজও গ্যাস সংযোগ পাননি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফুয়াদ বলেন, ‘শুনছি আর গ্যাস সংযোগ দেয়া হবে না। তাহলে কিছু লোককে গ্যাস সংযোগ দেয়া হলো কেন? একই শহরে বসবাস করে কিছু লোক গ্যাসে রান্না-বান্না করবেন, আর অন্যেরা তাকিয়ে দেখবেন! তাহলে আমাদের কাছ থেকে আবেদন নিয়ে দিনের পর দিন কেন ঘুরানো হলো?’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু ফুয়াদ হোসেন নন, তার মতো রাজশাহী মহানগরীর আরো প্রায় ১২ হাজার গ্যাস সংযোগের আবেদনকারী ক্ষোভে ফুঁসছেন। বাসা-বাড়িতে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের খবর শুনে আবেদনকারীরা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানির রাজশাহী অফিসে ধর্ণা দিচ্ছেন। কিন্তু তারা আদৌ সংযোগ পাবেন কী-না তা নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।
মহানগরীর সুলতানাবাদের আহমদ হোসেন বলেন, আবেদনের দু’বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো গ্যাসের সংযোগ পাননি। ইতিমধ্যে তার প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচও হয়েছে। ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, কাঠের জ্বালানিতে রান্না খুবই কষ্টদায়ক এবং ব্যয়বহুল। আবার সিলিন্ডার গ্যাসেও খরচ বেশি। এসব ভেবে গ্যাস সংযোগের আবেদন করেছি। কিন্তু সংযোগের জন্য যে এমন ভোগান্তি হবে জানতাম না। আরেক আবেদনকারী আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, শুনেছিলাম দু’তিন দিনেই তার বাসায় গ্যাস সংযোগ দেয়া হবে। কিন্তু বছর পার হলেও তিনি এখনো গ্যাস সংযোগ পাননি। সকল প্রকার ফি, এমনকি রাস্তা কাটার টাকাও সিটি কর্পোরেশনকে পরিশোধ করেছেন। এরপরও তার বাসায় গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়নি।
পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ৭ জুন রাজশাহীর ভাষাসৈনিক আবুল হোসেনের বাসায় সংযোগের মধ্যদিয়ে নগরীর বাসা-বাড়িতে গ্যাস সংযোগের উদ্বোধন করা হয়। গ্যাস সংযোগের জন্য আবেদন জমা পড়েছে প্রায় সাড়ে ২১ হাজার। প্রায় সাত বছরে মাত্র সাড়ে ৯ হাজার গ্রাহককে সংযোগ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এখনো প্রায় ১২ হাজার আবেদনকারী গ্যাসের সংযোগ পাননি। নগরীতে গ্যাস সংযোগ প্রদানকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘সাথী এন্টারপ্রাইজে’র স্বত্বাধিকারী রফিকুজ্জামান নিক্কন বলেন, ‘গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন আবেদনকারীরা আমাদের অফিসে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কিন্তু আমাদের তো কিছুই করার নাই। অনেকে সংযোগের শেষ প্রক্রিয়া রাইজার উত্তোলনের অর্থও জমা দিয়েছেন। কিন্তু তারাও গ্যাস সংযোগ পাচ্ছেন না। এ নিয়ে আবেদনকারীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।’
সূত্রমতে, প্রায় অর্ধশত ডিলারের মাধ্যমে নগরীতে গ্যাস সংযোগের আবেদন যাচাই-বাছাই হচ্ছিল। এসব ডিলারের প্রত্যেকের অফিসে হাজার হাজার আবেদন পড়ে আছে। আবেদনকারীরা প্রতিদিন সংযোগের সর্বশেষ খবরা-খবর নিতে ঘুরছেন। পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘গ্যাস সংযোগ না পেয়ে অনেকে আমাদের ওপর চড়াও হচ্ছেন। কিন্তু এ বিষয়ে আমাদের কি করার আছে? সরকার নতুন গ্যাস সংযোগ না দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। নতুন নির্দেশ না আসা পর্যন্ত আমরা কোনো গ্যাস সংযোগ দিতে পারবো না।’
