ডাচদের চেয়েও বেশি ভাবাচ্ছে আবহাওয়া

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৬, ১০:০৪
ধর্মশালার আবহাওয়া এখন ভীষণ খামখেয়ালী।
 
দিনের তাপমাত্রা ১৭ থেকে ২০ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করে। সূর্যের আলোয় শীতের প্রকোপটা তেমন একটা টের পাওয়া যায় না। কিন্তু সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে পড়ার সাথে সাথে পুরো উপত্যকায় শরীর হিম করা ঠান্ডা জেঁকে বসে। তাপমাত্রা নেমে যায় ৫ ডিগ্রির নিচে। কখনো কখনো বলা নেই কওয়া নেই শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। বৃষ্টি আর কনকনে ঠান্ডা হাওয়ায় নাকাল হয়ে যান ধর্মশালাবাসী। আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনাকেই আপাতত বড় প্রতিপক্ষ মনে করছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি। আবহাওয়ার পাশাপাশি মুস্তাফিজের ইনজুরিও কম ভাবাচ্ছে না অধিনায়ককে।
 
গতকাল সকালে এইচপিসিএ স্টেডিয়ামে নেট প্র্যাকটিস সেরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই উদ্বেগের কথাই জানালেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। বৈরী আবহাওয়া কীভাবে ক্রিকেট ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে, তার উদাহরণ দিতে গিয়ে সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপের ফাইনালের প্রসঙ্গ আনলেন। মাশরাফি বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি ফরমেটের ক্রিকেট মোমেন্টামের ওপর নির্ভর করে। এশিয়া কাপের ফাইনালে আমরা একরকম ফোকাস নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু বৃষ্টির কারণে দুই ঘন্টা খেলা বন্ধ থাকাতে সেটা আরেক রকম হয়ে গেছে। ধর্মশালায় এখন আল্লাহকে ডাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। আমরা যে পরিকল্পনা নিয়ে এসেছি সেই মত যেনো খেলতে পারি। কারণ বৃষ্টি হলে অনেক কিছু হিসাব করতে হয়। মাঠেরও একটা ব্যাপার থাকে। তখন আসলে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলা যায় না।’      
 
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে গত পরশু বিকালে ধর্মশালায় এসেছে বাংলাদেশ টিম। এসেই তারা পড়েছে বৃষ্টির কবলে। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হোটেলে উঠতে হয়েছে। হোটেলের রুমেই আবদ্ধ থেকে কাটাতে হয়েছে বাকিটা সময়। গতকাল সকালে বাংলাদেশ অনুশীলন করেছে ধর্মশালার এইচপিসিএ স্টেডিয়ামের বাইরের নেটে। অনুশীলন শেষে প্রেস ব্রিফিং করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
 
মাশরাফি বলেন, ‘ভারতের কন্ডিশন অনেকটা আমাদের মতই। তবে এখানে (ধর্মশালায়) দিনে দেখছি প্রচণ্ড গরম লাগে আবার রাতে ঠান্ডা। স্টেডিয়ামটা অনেক উঁচুতে হওয়ায় নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। আমাদের দু’টি ম্যাচ রাতে। তবে তা নিয়ে আমরা এখনই ভাবছি না। আমাদের প্রথম ম্যাচটি দিনে। একটু সময় পেলে এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠা সহজ হতো। তবে ইনটেনসিটি আমাদের রাখতে হবে। আমরা পরশু একটা ম্যাচ খেলে এসেছি। তাই ইনটেনসিটি নিয়ে সমস্যা নেই। তবে এমন নয় যে এসব ম্যাচে আমাদের চাপ নেই। এখানে একটা জিনিস শেখার রয়েছে যে যদি আমাদের সামনে আবহাওয়া বা অন্য কারণে কোনো কঠিন পরিস্থিতি আসে তাহলে সেটা আমরা কীভাবে মোকাবেলা করবো। তাই এখানে কয়েকটা দিন আমাদের হাতে থাকলে ভালো হতো।’
 
সাকিব, মুশফিকের ফর্ম নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য নেই মাশরাফির। তার মতে, ‘ওরা সিনিয়র প্লেয়ার। কী করতে হবে সেটা ওরা ভালোই জানে। যথাসময়ে ওরা ঠিকই যা করার করবে।’
 
এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলে ভারতে আসায় টাইগারদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়েছে বলে মাশরাফি মনে করেন। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ যেমন গত চার ম্যাচে নট আউট। ব্যাটিং অর্ডারে তাকে সামনের দিকে নিয়ে আসা যায় কীনা। এর উত্তরে মাশরাফি বলেন, ‘যখন কেউ লোয়ার অর্ডারে ভালো করে তখন অনেকেই তাকে সামনের দিকে এগিয়ে আনতে বলে। এটা খুব স্বাভাবিক। আবার মুশফিক, সাকিব ওরা কিন্তু ওই সময়টাতে বাংলাদেশ টিমকে সার্ভিস দিয়ে এসেছে। আমরা একজনকে পেতে গিয়ে আর দুইজনকে হারাতে চাই না। রিয়াদকে নিয়ে আমরা যে পরিকল্পনা করেছিলাম সেখানে সে প্রায় সফলই বলা যায়। আমাদের টিমও সফল। আসলে বেশি নাড়াচাড়া করা ঠিক হবে না। টি-টোয়েন্টিতে আমাদের গত দুই সপ্তাহ ভালো গিয়েছে। এই সময়টাতে মাথা আরো ঠান্ডা রেখে সবকিছু করতে হবে। আমরা অবশ্যই চেষ্টা করবো রিয়াদকে যত বেশি সম্ভব ব্যাটিং করানো।’