ধর্মশালায় এক টুকরো বাংলাদেশ

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৬, ১০:২০
ঢাকা থেকে সড়কপথে ধর্মশালার দূরত্ব কমপক্ষে আড়াই হাজার কিলোমিটার।
 
এতো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কেউ বাংলাদেশের খেলা দেখতে এখানে আসবে, কেউ তা কল্পনাও করেনি। কিন্তু সেই কঠিন কাজটাই করেছেন ওরা। সুদূর পথ পাড়ি দিয়ে টাইগারদের খেলা দেখতে বাংলাদেশ থেকে ছুটে এসেছেন হিমালয়ের কোলঘেঁষা শৈলশহর ধর্মশালায়। শুধু বাংলাদেশ থেকেই নয়, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিরাও কাল ভিড় জমিয়েছেন ধর্মশালায়। এখানকার হোটেলগুলো এখন বাংলাদেশিদের দখলে। ধর্মশালা, ম্যাকলিয়ডগঞ্জ, ভাগসু, পালামপুরের শপিং মল, চায়ের দোকান, বাস স্ট্যান্ডে হরহামেশাই বাংলাদেশিদের দেখা মিলছে। ধর্মশালা যেন এক টুকরো বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে।
 
একই চিত্র গতকাল দেখা গেল ধর্মশালার এইচপিসিএ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে। এই স্টেডিয়ামে কাল নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ ভেন্যু হিসেবে অভিষেক হলো অসাধারণ সৌন্দর্যমন্ডিত এই স্টেডিয়ামটির। এমন স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে রইলেন অনেক বাংলাদেশি। নিজের দেশের পতাকা নিয়ে নেচে গেয়ে প্রিয় দলকে সর্মথন জুগিয়েছেন তারা। দর্শকদের মধ্যে তরুণ প্রজন্মের আধিক্যই ছিল বেশি। গ্যালারিতে দর্শক খরা থাকলেও স্টেডিয়াম জমিয়ে রাখতে দুই হাজার বাংলাদেশির সরব উপস্থিতিই যথেষ্ট ছিল।
 
স্টেডিয়ামের পাশে এক রেস্টুরেন্টে কথা হয় ঢাকা থেকে আসা বিটিভি’র কর্মকর্তা রেজা ও তার বন্ধু শহীদের সাথে। তিনি জানান, তারা ঢাকা থেকে বাসে কলকাতা এসে সেখান থেকে ট্রেনে দিল্লি এবং সবশেষে দিল্লি থেকে বাসে চড়ে ধর্মশালায় এসেছেন। সব মিলিয়ে তিনদিন তাদের রাস্তায় কাটাতে হয়েছে। রাস্তার এই কষ্ট আনন্দে পরিণত হবে যদি বাংলাদেশ সুপার টেনে উঠতে পারে।
 
 টাইগারদের খেলা দেখতে ভারতের সিমলা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ঝাঁক শিক্ষার্থী এসেছেন। ৩৭ জনের এই দলটির সবাই বাংলাদেশি। শর্মী সাহা, সামান্থা, পূজা রায়, জাহিদ, আদিত্য, পাভেল এরা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বর্ষের ছাত্র। কিন্তু বাংলাদেশের খেলা দেখার জন্য জুনিয়র-সিনিয়র ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক সাথে ধর্মশালায় ছুটে এসেছেন। বাংলাদেশ কেন সরাসরি সুপার টেনে খেলার সুযোগ পায়নি সেজন্য খুব কষ্ট শর্মী সাহার। তার আশা, বাংলাদেশ অবশ্যই ‘এ’ গ্রুপে সেরা হয়ে সুপার টেনে উঠবে। সুপার টেনে বাংলাদেশের খেলা দেখার জন্য সিমলা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তরুণ শিক্ষার্থীরা কলকাতা এবং বেঙ্গালোরেও যাবে বলে শর্মী জানালেন।
 
স্টেডিয়াম এলাকায় কথা হয় দুই ডাচ সমর্থক হ্যারি ও জনের সাথে। হ্যারি লেখক আর জন সাংবাদিক। দু’জনই থাকেন আমস্টারডাম শহরে। নেদারল্যান্ডসের খেলা দেখার জন্য তারাই ছুটে এসেছেন। তবে ইত্তেফাককে তারা জানালেন, ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশই ফেবারিট। বড় ধরনের অঘটন না ঘটলে বাংলাদেশই এই গ্রুপ থেকে সুপার টেনে উঠবে।