নিজেদের অস্ত্রেই ঘায়েল হল ভারত

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৬, ১০:৩০
ভারতের ওষুধেই ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ঘায়েল করলো নিউ জিল্যান্ড। স্পিনারদের নৈপুণ্যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেনের প্রথম ম্যাচে মহেন্দ্র সিং ধোনির দলকে ৪৭ রানে হারিয়েছে কিউইরা। বোলারদের নৈপুণ্যে নিউ জিল্যান্ডকে অল্প রানে বেঁধে রেখেছিল ভারত। তবে চমকের তখনও বাকি। 
 
নাগপুরের স্পিন সহায়ক পিচে মিচেল স্যান্টনার, নাথান ম্যাককালাম, ইশ সোধিদের ঘূর্ণিতে পথ হারালো স্বাগতিক ব্যাটসম্যানেরা। ভারতকে ৭৯ রানে অলআউট করে অসাধারণ এক জয় দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পথচলা শুরু হলো নিউ জিল্যান্ডের। মঙ্গলবার নাগপুরের বিদর্ভ ক্রিকেটে অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে সুপার টেনের প্রথম এই ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ১২৬ রান করে কেন উইলিয়ামসনের দল। দারুণ ছন্দে থাকা বিরাট কোহলি-রোহিত শর্মাদের বেকায়দায় ফেলে ১৮.১ ওভারেই তারা গুটিয়ে দেয় ভারতের ইনিংস।
 
টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে ভারতের এটা দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ইনিংস। আর এই সংস্করণের বিশ্বকাপে এটা তাদের সর্বনিম্ন ইনিংস। বিশ্বকাপে আগের সর্বনিম্ন ছিল ২০০৯ আসরে; দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৮ উইকেটে ১১৮ রান করেছিল তারা। এর আগে পাঁচবারের মুখোমুখি লড়াইয়ে চারটিতেই জেতে নিউ জিল্যান্ড, অন্যটি পরিত্যক্ত। 
 
কিউইদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে আগে কখনও না জিতলেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স আর কন্ডিশনের বিবেচনায় এ ম্যাচে ফেভারিট ছিল ভারত। শুকনো আর খানিকটা চিড় ধরা উইকেট ছিল ভারতের জয়ের ‘রেসিপি’ অনুযায়ীই। তবে সেই উইকেট ঠিকভাবে পড়তে পেরেছিল নিউ জিল্যান্ডও। স্পিন সহায়ক উইকেট দেখে দলের সেরা দুই পেসার ট্রেন্ট বোল্ট ও টিম সাউদিকে বাইরে রেখে তিন স্পিনারকে নিয়ে দল সাজায় তারা।
 
ছোট লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা ভারতের ইনিংসে প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন স্পিনার ম্যাককালাম। সবশেষ এশিয়া কাপের ফাইনালের ম্যাচ সেরা শিখর ধাওয়ানকে (১) এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন এই ডান-হাতি স্পিনার। তৃতীয় ওভারে স্যান্টনারের জোড়া আঘাতে ফেরেন রোহিত (৫) ও সুরেশ রায়না (১)। খানিক বাদে ম্যাককালামের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন যুবরাজ সিং (৪)। কোহলি প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি, ২৩ রান করে সোধির বলে উইকেটের পিছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।
 
৩৯ রানে প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ভারত। মহেন্দ্র সিং ধোনি শেষ একটা চেষ্টা করলেও জ্বলে ওঠা কিউই স্পিনারদের জবাব জানা ছিল না তারও, নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ৩০ বলে সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন। ভারতের আরেক জনই মাত্র দুই অঙ্কের দেখা পান, রবিচন্দ্রন অশ্বিন (১০)।
 
প্রথম নয় উইকেট স্পিনাররা শিকার করার পর নেহরাকে বোল্ড করে ভারতের ইনিংস মুড়ে দেন পেসার অ্যাডাম মিলনে। নিউ জিল্যান্ডের দুর্দান্ত এই জয়ের মূল কারিগর স্যান্টনার ৪ ওভারে ১১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। টি-টোয়েন্টিতে এটা তার সেরা বোলিং। সোধি ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। ম্যাককালাম ১৫ রানে নেন ২ উইকেট।
 
IMG0
 
এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নিউ জিল্যান্ডের ইনিংসের শুরুটাও ভালো ছিল না। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের করা ইনিংসের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান মার্টিন গাপটিল (৬)। কিন্তু পরের বলেই সরাসরি বোল্ড ডান-হাতি এই ব্যাটসম্যান। দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে ক্যাচ আউট হয়ে ফিরে যান কলিন মানরো (৭)। শুরুর এই ধাক্কা আর কাটাতে পারেনি দলটি। অধিনায়ক উইলিয়ামসন (৮) ও রস টেইলরও (১০) হতাশ করেন।
 
চার নম্বরে নামা কোরি অ্যান্ডারসন চেষ্টা করলেও রানের গতি ধরে রাখতে পারেননি। জাসপ্রিত বুমরাহর বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৪২ বলে ৩৪ রান করেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান। শেষ দিকে লুক রনকির ১১ বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ২১ রানের ঝড়ো ইনিংসে লড়াই করার মতো ইনিংস গড়ে নিউ জিল্যান্ড। অশ্বিন, আশিস নেহরা, বুমরাহ, সুরেশ রায়না ও রবিন্দ্র জাদেজা, সবাই একটি করে উইকেট নেন। এর মধ্যে ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান করে দেন বুমরাহ ও রায়না। ক্রিকইনফো।