কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামের ইসমাইল মল্লিকের ছেলে হতদরিদ্র কৃষক তসলেম উদ্দিন (৫০) কোন প্রকার রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই শুধু কেঁচো সার ও ফেরোমন ফাঁদ প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাউ চাষে আশাতীত সাফল্য দেখিয়েছেন।
কৃষক তসলেম উদ্দিনের ওই সাফল্যের খবর কিছুদিন আগে দৈনিক ইত্তেফাকসহ স্থানীয় দৈনিকে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়। খবরটি নজর কাঁড়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেনের। বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিমকে সঙ্গে নিয়ে আকস্মিকভাবে তসলেম উদ্দিনের লাউ ক্ষেত পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কৃষক তসলেম উদ্দিনের সম্পুর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত লাউ চাষ দেখে মুগ্ধ হন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে ছিলেন, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজাদ জাহান, অফিসার ইনচার্জ কাজী জালাল উদ্দিন আহমেদ ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ।
উল্লেখ্য , কৃষক তসলেম উদ্দিন, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ২য় শষ্য বহুমুখীকরণ প্রকল্প (এসডিপি) এর সহায়তায় কুমারী-২ জাতের লাউ চাষ করে এ সাফল্য দেখান। যে মাঠে তসলেমের লাউ চাষের আবাদ হচ্ছে সেই মাঠে মাত্র ১৪ কাঠা লাউ চাষ ছাড়া মাঠের পর মাঠ দিগন্ত জোড়া জমিতে চাষ হচ্ছে বিষবৃক্ষ তামাকের।
তসলেম ২ বছর আগে ১৫ হাজার টাকায় জমি লিজ নিয়ে লাউ চাষের আবাদ শুরু করেন। গত বছর ও চলতি বছর শেষে তসলেম খরচ বাদে লক্ষাধিক টাকা লাভ করতে পারবে বলে জানান। তসলেম আরো জানান, তিনি এক সময় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে লাউ চাষ করে যে ফলন পেতেন বতমানে মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে কেঁচো সার ও ফেরোমন ফাঁদ প্রযুক্তি ব্যবহার করেও অনুরুপ ফলন পাচ্ছেন। উপরন্তু খরচ ও সময় দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে।
