নাটকীয় জয়ে শেষ আটে বায়ার্ন

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৬, ০৯:০৩
উত্তেজনায় ঠাসা, নাটকীয়তায় ভরা ২১০ মিনিটের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হাসলো বায়ার্ন মিউনিখ। দুই লেগের সমানে-সমান লড়াই শেষে অতিরিক্ত সময়ের গোলে জুভেন্টাসকে হারিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছে পেপ গার্দিওলার ক্লাবটি।
 
 
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় অর্ধে দুই মিনিটের ব্যবধানে থিয়াগো আলকানতারা ও কোমান লক্ষ্যভেদ করলে ৪-২ গোলের জয়ে শেষ আটের টিকেট নিশ্চিত হয়ে যায় বায়ার্নের। দারুণ এই জয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শেষ আটে উঠল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। 
 
অথচ আলভারো মোরাতা ও পল পগবার নৈপুণ্যে বুধবার রাতে প্রায় জিতেই গিয়েছিল জুভেন্টাস। কিন্তু দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে লড়াইটাকে অতিরিক্ত সময়ে টেনে নেয় স্বাগতিকরা। আর সে পর্বেই পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের এই অসাধারণ জয়। গোল না পেলেও দলকে এগিয়ে নেওয়া পগবা ও হুয়ান কুয়াদরাদোর গোলে দারুণ অবদান রাখেন মোরাতা। নির্ধারিত সময়ে বায়ার্নকে সমতায় ফেরানো গোল দুটি করেন রবার্ট লেভানদোভস্কি ও টমাস মুলার।
 
প্রথম পর্বে ঘরের মাঠে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে কোণঠাসা হয়ে পড়া জুভেন্টাস শেষ ৩০ মিনিটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-২ গোলে ড্র করেছিল। বুধবার রাতে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় দারুণ শুরু করে ইতালিয়ান ক্লাবটি। ম্যাচ শুরুর পঞ্চম মিনিটেই দারুণ এক পাল্টা আক্রমণে এগিয়ে যায় তারা। বায়ার্নের ডিফেন্ডার ডেভিড আলাবা বক্সের মুখে বল বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হলে সতীর্থ পগবার দিকে বল বাড়ান মোরাতা। তাকে বাধা দিতে ছুটে গিয়েছিলেন গোলরক্ষক মানুয়েল নয়ার, কিন্তু ১৮ গজ দূর থেকে ফাঁকা জালে লক্ষ্যভেদ করেন ফরাসি তারকা পগবা।
 
পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা দ্রুত সামলে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ বাড়াতে থাকে বায়ার্ন। তবে ২৮তম মিনিটে দুর্দান্ত এক প্রতি-আক্রমণে ব্যবধান দ্বিগুণ করে অতিথিরা। নিজেদের সীমানা থেকে সঙ্গে লেগে থাকা এক জনকে পিছনে ফেলে বল পায়ে অদম্য গতিতে ছুটে আরও দুই জনকে ফাঁকি দিয়ে ডান দিকে বল বাড়ান মোরাতা। আর ওই পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সের মধ্যে এক জনকে কাটিয়ে জোরালো শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন কলম্বিয়ার মিডফিল্ডার কুয়াদরাদো।
 
IMG0
 
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে স্বাগতিক রক্ষণে একচেটিয়া চাপ ধরে রাখা জুভেন্টাস ৫৬তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নিতে পারতো। শুরু থেকে দারুণ খেলা মোরাতা বল পায়ে বক্সে ঢুকে দুজনের বাধা এড়িয়ে শটও নেন, কিন্তু বল ক্রসবারের সামান্য উপর দিয়ে চলে যায়।
 
অবশেষে ৭৩তম মিনিটে একটি গোল শোধ দলকে আশার আলো দেখান লেভানদোভস্কি। ডগলাস কস্তার ক্রসে ছয় গজ বক্সের মধ্যে থেকে হেডে বল জালে জড়ান এই পোলিশ ফরোয়ার্ড। যোগ করা সময়ের শুরুতেই দলকে সমতাসূচক গোল এনে দেন মুলার। বদলি নামা ফরাসি ফরোয়ার্ড কিংসলে কোমানের দারুণ ক্রসে কাছ থেকে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন এই জার্মান ফরোয়ার্ড।
 
রিবেরির বদলি হিসেবে নামার খানিক পরেই ১০৮ মিনিটে মুলারের সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে বাঁকানো শটে ম্যাচে দলকে প্রথমবারের মতো এগিয়ে দেন আলকানতারা। আর ১১০ মিনিটে বক্সের মধ্যে এক জনকে কাটিয়ে জয় নিশ্চিত করা গোলটি করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড কোমান। গোল.কম।