কলকাতা থেকে ব্যাঙ্গালুরু। সিটি অব জয় থেকে সিলিকন ভ্যালি।
দুই ঘণ্টা দশ মিনিটের বিমান ভ্রমণ। বিমানে চাপতেই বোঝা গেল, ভাগ্যক্রমে বাংলাদেশ দলেরই ভ্রমণসঙ্গী হওয়া গেছে। ইডেন গার্ডেন্সে পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় হারের পর মনটা নিশ্চয়ই খারাপ ছিল। কিন্তু লম্বা যাত্রায় একটা ব্যাপার বোঝা গেল, সে ধকল কাটিয়ে ওঠার সর্বোচ্চ চেষ্টাই করছেন খেলোয়াড়রা।
এই ভ্রমণের পুরো সময়টাই ফুর্তিতেই সময় পার করেছে টাইগাররা। গত পরশু পাকিস্তানের কাছে হেরে যাওয়ায় সবার বুকের ভেতরেই একটা চাপা কষ্ট ছিল। কিন্তু কেউ সেটা বুঝতে দিতে চাইছিলেন না। হতাশা কাটিয়ে সামনের ম্যাচগুলোর কথা চিন্তা করাই ভালো। তাই সারাক্ষণই খোশগল্পে মত্ত ছিলেন সবাই। বিমানে তামিম, সাকিব আর তাসকিন পাশাপাশি বসেছিলেন। তামিম এয়ার হোস্টেজের কাছ থেকে একটা কম্বল চেয়ে নিতেই যেন কী বলে রসিকতা করলেন। তা শুনে মুচকি হাসি হাসলেন জানালার পাশে বসা সাকিব।
সুপার টেন পর্বে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিরুদ্ধে দুটি ম্যাচ খেলতে গতকাল ব্যাঙ্গালুরুতে পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল। সকাল দশটা পঞ্চাশে মাশরাফিদের নিয়ে জেট এয়ারের একটি বিমান কলকাতার নেতাজী সুভাষ বসু বিমানবন্দর থেকে উড়াল দেয়। দুপুর একটায় বিমানটি ব্যাঙ্গালুরু বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সেরে মাশরাফিরা চলে যায় রিজ কার্লটন হোটেলে। আগামী ২৪ মার্চ পর্যন্ত টাইগাররা থাকবে এখানেই।
এই ব্যাঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ২১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এবং ২৩ মার্চ ভারতের বিপক্ষে দুটি মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এরপর তারা আবার ফিরে আসবে কলকাতায়। ২৬ মার্চ ইডেন গার্ডেন্সে সুপার টেনে নিজেদের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা। তার আগে ব্যাঙ্গালুরুপর্ব শেষ করতে গতকাল পৌঁছলেন মাশরাফিরা।
প্লেনে বাংলাদেশ টিমকে দেখে হতবাক যাত্রীরাও। প্লেনটি কোনোমতে কলকাতা থেকে টেক অফ করতেই টাইগারদের সাথে সেলফি তোলার হিড়িক পড়ে যায়। তবে এতে কিঞ্চিত্ আপত্তি ছিল তামিমের। কারণ অতি উত্সাহীদের কারণে বিমানের মাঝখানের প্যাসেজে একটা মাঝারি আকারের ভিড় জমে গিয়েছিল। কেবিন ক্রুরা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করতে পারছিলেন না। তবে কে শোনে কার কথা। ছেলে-বুড়ো, সব বয়সীরাই উপস্থিত মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে। তবে প্লেনে এত কাণ্ড হচ্ছে তা জানতেই পারছিলেন না অধিনায়ক মাশরাফি আর রিয়াদ। ক্লান্তি ও অবসাদগ্রস্ত শরীর নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তারা। বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিক ব্যস্ত ছিলেন ল্যাপটপে টিমের ভিডিও ফুটেজ দেখার কাজে। হেড কোচ চন্দিকা হাতুরুসিংকে মনে হচ্ছিল অন্যদের চেয়ে কিছুটা বেশি গম্ভীর। ছবি তুলতে গেলে কিছুটা বিরূপ প্রতিক্রিয়াই দেখান তিনি।
বিমানবন্দরের বেল্ট থেকে লাগেজ সংগ্রহ করার সময় জটলার আকারটা আরো বড় হয়ে যায়। এবার শুধু বিমানের সহযাত্রীরাই নয়, সেলফি তুলতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন অন্য বিমানের যাত্রী এবং বিমানবন্দরের কর্মীরাও। কাউকেই হতাশ করেনি টাইগাররা। কারণ নিজেদের হতাশা কাটাতে মানুষের এমন হূদয় নিংড়ানো ভালোবাসা খুব প্রয়োজন ছিল তাদের।
একটা ব্যাপার বেশ বোঝা গেল, কলকাতায় এই এক ম্যাচে হার বাংলাদেশের শক্তিশালী দল হয়ে ওঠা ভাবমূর্তি কেড়ে নিতে পারেনি। ভারতের আরেক প্রান্তের শহরেও দিব্যি কাড়াকাড়ি তাদের নিয়ে। মানে, দলটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করায় কমতি নেই।
এখন বাংলাদেশ দলের সামনেই চ্যালেঞ্জ, নিজেদের গুরুত্বটা এই ব্যাঙ্গালুরুতেই প্রমাণ করে যাওয়া।
