ইউরোপমুখী শরণার্থীদের স্রোত ঠেকাতে তুরস্কের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। শুক্রবার ২৮ জাতির এ জোটের বৈঠকে নেতারা চুক্তিটি চূড়ান্ত করেন।
এদিকে তুরস্কের সঙ্গে চুক্তি করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আসলে শরণার্থীদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর এক টুইট বার্তায় ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক জানান, তুরস্কের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮ নেতার চুক্তিটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে।
অন্য একটি সূত্র জানায়, এ চুক্তির আওতায় যেসব অভিবাসন প্রত্যাশী ও শরণার্থী রবিবার দিবাগত মধ্যরাতে গ্রিসে প্রবেশের পর আশ্রয়ের অনুমতি পাবেন না বা গ্রিসে থাকতে অস্বীকার করবেন তাদের তুরস্কে ফেরত পাঠানো হবে। আর বিনিময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো তুরস্কে অবস্থানরত সিরীয় কয়েক হাজার শরণার্থীকে বসবাসের ব্যবস্থা করে দেবে।
একটি সূত্র জানায়, এই চুক্তির অধীনে তুরস্কে অবস্থানরত ৭২ হাজার সিরীয় শরণার্থীকে বসবাসের ব্যবস্থা করে দেবে ইইউ। সেইসঙ্গে তুরস্ককে আরো অর্থ সহায়তা, দ্রুত ভিসা-ফ্রি ভ্রমণ এলাকায় প্রবেশের অনুমতি এবং ইইউ’র সদস্য পদ দেয়ার বিষয়ে আলোচনা আবারও শুরু হবে।
শুক্রবার তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেত দাভুতোগলুর সঙ্গে আলোচনার পর ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই ইইউভুক্ত ২৮টি দেশের কাছে প্রস্তাবিত খসড়া চুক্তি অনুমোদন করার সুপারিশ করেন এবং ব্রাসেলস সম্মেলনে নেতারা এ ব্যাপারে একমত পোষণ করেন।
তুরস্কের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বলেন, খুব সম্ভবত ৪ এপ্রিল থেকে শরণার্থীদের ফেরত নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। একই সঙ্গে তুরস্কে অবস্থিত সিরীয় শরণার্থীদের ইউরোপে পুনর্বাসন কার্যক্রমও শুরু হবে। ২০১৮ সাল নাগাদ শরণার্থীদের জন্য অর্থ সাহায্য দ্বিগুণ করার বিষয়েও একমত হয়েছে উভয় পক্ষ।
চুক্তি চূড়ান্তের ঘোষণা আসার পরপরই অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইইউ নেতাদের বিরুদ্ধে ‘দ্বিমুখী নীতি’ অবলম্বনের অভিযোগ করে। ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় অ্যামনেস্টির পরিচালক জন ডালহুসেইন বলেন, এ চুক্তির ফলে একদিকে শরণার্থীদের পিঠ দেখানো হলো, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ও ইউরোপীয় আইনের লঙ্ঘন করা হলো। ইউরোপে শরণার্থী আশ্রয় ও সুরক্ষা নীতিকে সংকুচিত করার নামে আসলে মানবতাকে ‘চিনির প্রলেপযুক্ত সায়ানাইড পিল’ খাওয়ানো হলো।
তিনি আরো বলেন, অভিবাসন প্রত্যাশীদের তুরস্কে ফেরত পাঠানোর এ সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অবমাননা। কেননা শরণার্থী ও অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য তুরস্ক মোটেও নিরাপদ দেশ নয়। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স
