বর্তমান সময়ে হাতের কাছে মোবাইল ফোন না থাকলে কি চলে? তা সে ফোন স্মার্ট হোক বা না হোক। সবাই সমস্বরে বলবে, অবশ্যই না, মোবাইল ছাড়া এক মুহূর্তও চলা সম্ভব না। অথচ, এইটুকু বুঝলেন না, পাক সরকারের কর্তাব্যক্তিরা। তারা কড়া হুঁশিয়ারি জারি করেছেন, এখন মোবাইল ফোন ব্যবহার করা মানেই তা রাষ্ট্রদ্রোহিতার সমতুল্য!
অবশ্য পাক সরকারের কর্তাব্যক্তিরা জানাচ্ছেন, তারা এতটাও নিষ্ঠুর নন! মোবাইল ফোন ব্যবহার করা থেকে তারা দেশবাসীকে বঞ্চিত করে রাখবেন না। শুধু দিন তিনেকের জন্য তা বন্ধ রাখলেই হবে!
আর, নিষেধাজ্ঞাও সারা পাকিস্তানেও নয়; কেবল রাজধানী ইসলামাবাদ আর তার পাশের শহর রাওয়ালপিন্ডি নিয়ে! সূত্র- দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও পাকিস্তান টুডে।
আসলে সামনেই পাকিস্তানের জাতীয় দিবস। ২৩ মার্চ। বাংলাদেশে ২৬ মার্চ যেমন প্যারেড এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে পালিত হয়, সেরকমটাই ২৩ মার্চ হয়ে থাকে পাকিস্তানেও। সেই অনুষ্ঠানের নিরাপত্তার স্বার্থেই মোবাইল ফোন ব্যবহারে ফতোয়া জারি করা হয়েছে।
উদ্দেশ্য সহজ, যাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে কোনও নাশকতামূলক ঘটনা না ঘটে!
ফলে সোমবার সারা দিনটাই বন্ধ থেকেছে মোবাইল ফোনের সংযোগ। বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট সেবাও। কথা আছে, সন্ধ্যার পরে সেই ফতোয়া উঠিয়ে নেওয়া হবে। তার পর ২৩ তারিখে অবশ্য সারা দিন ফের বন্ধ থাকবে মোবাইল ফোন আর ইন্টারনেটের ব্যবহার!
পাকিস্তানই বা কী করে। এর আগে জাতীয় দিবসে শেষ পালিত হয় ২০০৮ সাল। পারভেজ মোশারফ সেই সময়ে প্যারেড পরিচালনা করেন। তার পর নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা কারণে উদযাপন বন্ধ হয়ে যায়।
ফের তা শুরু করার লক্ষ্যেই এবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নে অটল থাকছে পাকিস্তান।
