তেল সমৃদ্ধ পূর্ব তিমোরের রাজধানী দিলিতে অস্ট্রেলীয় দূতাবাসের সামনে মঙ্গলবার হাজার হাজার লোক বিক্ষোভ করেছে। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের তেল নিয়ে বিরোধের কারণে তারা এই বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা দূতাবাসটি দীর্ঘ সময় ধরে অবরোধ করে রাখে।
বিভিন্ন প্লাকার্ড হাতে ওইদিন বিক্ষোভকারীরা অস্ট্রেলিয়াকে তাদের তেল 'চুরি' বন্ধ করতে নানা শ্লোগান দেয়। তারা অভিযোগ করে যে অস্ট্রেলিয়া তিমোর সাগর থেকে অবৈধভাবে তেল নিয়ে যাচ্ছে।
২০০৬ সালে পূর্ব তিমোর এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে তিমোর সাগরের প্রতিবেশী দেশমূহের মধ্যে তেল এবং গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসা হাজার হাজার ডলারের অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।
দিলির অভিযোগ, ক্যানবেরা এই চুক্তির মাধ্যমে সেখানে গুপ্তচরবৃত্তি চালিয়ে যাচ্ছে। তারা বলেন, এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া তাদের চুক্তি লঙ্ঘন করছে। তারা নতুন করে সমুদ্রসীমা নিয়ে আলোচনার দাবি জানান। এ সংক্রান্ত অভিযোগ ২০০৪ হেগের ট্রাইব্যুনালেও উত্থাপন করা হয়েছিল। সে সময়ে বলা হয়েছিল, অস্ট্রেলিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা আসিস বিভিন্ন ডিভাইসের মাধ্যমে গোপনে তথ্য নিয়ে যাচ্ছে।
বিক্ষোভকারীরা এ সময় বলে যে অস্ট্রেলিয়া ও পূর্ব তিমোরের মধ্যে কোনো স্থায়ী সমুদ্রসীমা নেই। দুই দেশ সমুদ্র থেকে তেল ও গ্যাসের মাধ্যমে যে অর্থ অর্জিত হবে তা পারস্পরিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নিবে। কিন্তু বাস্তবিকই এসবের কোনো উপস্থিতি সেখানে নেই। তাই তারা এ নিয়ে ক্ষোভে ফেটে উঠে।
চুক্তির আওতায় যৌথ প্রেট্রোলিয়াম উন্নয়ন অঞ্চল থেকে শতকরা ৯০ ভাগ অর্থ পাওয়ার কথা থাকলেও তারা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে দাবি করছে। তারা বলছে অস্ট্রেলিয়াকে চুক্তি মোতাবেক যা নেয়ার কথা ছিল তার থেকে বেশি নিচ্ছে। অপরদিকে অস্ট্রেলিয়ার তরফ থেকে বলা হচ্ছে বর্তমানে তারা যা করছে তা জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ীই করছে। সূত্র: বিবিসি
