গত বছরই ওয়ানডে বিশ্বকাপের গেরোটা কাটিয়েছে নিউজিল্যান্ড।
শেষ হাসিটা হাসতে না পারলেও ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রথম ফাইনাল খেলে ফেলেছে তারা। এক বছর পার হতে না হতেই তাদের সামনে সুযোগ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও প্রথমবারের মতো ফাইনালিস্ট হওয়ার।
শেষ পর্যন্ত হাসিটা যেই হাসুক, সুযোগ এখন পর্যন্ত চার দলের সামনেই সমান—নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
আজ প্রথম সেমিফাইনালে দিল্লিতে মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। আগামীকাল দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুম্বাইতে লড়বে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পুরুষদের ডামাডোলে চাপা পড়ে যাওয়া মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দুটি সেমিফাইনালও অনুষ্ঠিত হবে একই ভেন্যুতে, একই তারিখে; পুরুষদের খেলার ঠিক আগে। আজ অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড এবং আগামীকাল নিউজিল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ মুখোমুখি হবে মেয়েদের দুটি সেমিফাইনালে।
আর ৩ এপ্রিল কলকাতার ইডেন গার্ডেনে পরপর অনুষ্ঠিত হবে দুটি ফাইনাল।
এটা মানতেই হবে যে, আলোচনার শীর্ষে থাকছে ছেলেদের টুর্নামেন্ট।
ছেলেদের এই টুর্নামেন্টে সেমিফাইনালিস্টদের তালিকায় চোখ বোলালে সবচেয়ে বড় অনুপস্থিতি চোখে পড়বে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফেভারিটদের তালিকা করলে নিশ্চয়ই এই দুটি দলকে এগিয়ে রাখতে হতো। কিন্তু মাঠের খেলায় দুটি দলই হার মেনেছে শেষ চারের লড়াই শুরুর আগে। এর মধ্যে কঠিনতম গ্রুপ বলে অস্ট্রেলিয়ার সেরা চারে না আসাটা মোটামুটি মেনে নেয়া গেলেও দক্ষিণ আফ্রিকার পারফরম্যান্স দুঃখজনকই ছিলো।
প্রথম ৩ ম্যাচের মধ্যেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে কার্যত নিজেদের বিদায় নিশ্চিত করে ফেলে তারা। সেখানে একই গ্রুপে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টানা তৃতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলতে এসেছে দলটি। শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অঘটনের শিকার হলেও আগেই নিশ্চিত করে ফেলে তারা সেমিফাইনাল।
ইংল্যান্ডও টুর্নামেন্টপূর্ব ফেভারিট না হলেও তিনটি জয় নিয়ে গ্রুপপর্ব পার করে ফেলেছে।
সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলো গ্রুপপর্বে নিউজিল্যান্ড। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট দলটি অপরাজেয় শক্তি হিসেবে এসেছে সেমিফাইনালে। উপমহাদেশের কন্ডিশনে নিউজিল্যান্ড দুর্বল, এমন ধারণাকে স্রেফ ধুলোয় মিলিয়ে দিয়ে এই কন্ডিশনের সেরা ব্যবহার করেছে দলটি। কোনো কোনো ম্যাচে তিন স্পিনার নামিয়ে স্রেফ উইকেটের সেরা ব্যবহার করে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশকে; আবার ব্যাটিং ও পেস বোলিং দিয়ে অসহায় করেছে পাকিস্তানকে।
এই গ্রুপে খেলাটা এমনই জমে উঠেছিলো যে, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচটা হয়ে উঠেছিলো ‘কোয়ার্টার ফাইনাল’। যে জিতবে, সেই সেমিফাইনালে— এমন সমীকরণ মাথায় নিয়ে বিরাট কোহলির অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ে পথ খুঁজে পায় ভারত।
সুপার টেনে নিশ্চয়ই টুর্নামেন্টের সেরা আকর্ষণ ছিলেন বিরাট কোহলি এবং নিউজিল্যান্ডের স্পিনার বাহিনী; বিশেষ করে মাইকেল স্যান্টনার। তবে পরিসংখ্যানের বিচারে এখনও বিশ্বকাপের শ্রেষ্ঠত্বগুলোতে বাংলাদেশের নাম লেখা রয়েছে। সেমিফাইনাল শুরুর আগ পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি রান তামিম ইকবালের ২৯৫; সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটা এখনও তামিমের—১০৩*। সবচেয়ে বেশি উইকেটে এখন পর্যন্ত আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবীর—১২টি। তবে টুর্নামেন্টের সেরা বোলিং বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমানের ২২ রানে ৫ উইকেট।
এসব অর্জনের চেয়ে বাংলাদেশের জন্য অপ্রাপ্তি হয়ে আছে সুন্দর ক্রিকেট খেলার পরও একটাও জয় না পাওয়া; বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে একেবারে নিশ্চিত জেতা ম্যাচ ১ রানে হেরে আসা।
তবে সবকিছুই এখন স্মৃতি। এখন কেবল সামনে তাকানোর পালা। আর সেই সামনে তাকানোর শুরুটা আজই। বলা যায়, আজই শুরু হবে আসল চ্যাম্পিয়নের খোঁজ।
